কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা বাঁধের একটি অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাচকল সরকতারি এলাকায় হঠাৎ করেই বাঁধের একটি অংশ নদীগর্ভে ধসে পড়তে শুরু করে। রাতভর ভাঙন অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ প্রায় ২০ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, ভাঙন আরও বিস্তৃত হলে হাজারো বসতঘর, কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, ব্রহ্মপুত্রের তীব্র স্রোত এবং নদীর তলদেশের পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সাম্প্রতিক প্রবল পানির চাপে সেই দুর্বল অংশে ভাঙন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা আছিয়া বেগম বলেন, রাতভর বাঁধ ভাঙার দৃশ্য দেখে আতঙ্কে কাটাতে হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে বৃহস্পতিবার শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে দ্রুত বালুভর্তি জিওটেক্সটাইল ব্যাগ ফেলার দাবি জানান। তারা বলেন, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। জরুরি সুরক্ষা কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নৌযানের মাধ্যমে বালুভর্তি জিওটেক্সটাইল ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই নকশাগত ও কাঠামোগত কিছু দুর্বলতা ছিল। প্রয়োজনীয় সংখ্যক কংক্রিট ব্লক ও জিওটেক্সটাইল ব্যাগ না থাকায় বর্ষা মৌসুমে এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বাঁধ পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণের একটি প্রকল্প প্রস্তাব ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। অনুমোদন পাওয়া গেলে পূর্ণাঙ্গ কাজ শুরু হবে।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
