বিতর্কিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে তানজানিয়ার রাজধানীসদৃশ বাণিজ্যিক নগরী দার এস সালামসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরে সেনা ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে সরকার। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে তানজানিয়া সরকার নিরাপত্তা হুমকির কারণ দেখিয়ে সব ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ ও জনসভা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা কতদিন কার্যকর থাকবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
আগামী ৭ জুলাই তরুণদের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, তারা গণতান্ত্রিক সংস্কার, রাজনৈতিক অধিকারের সুরক্ষা এবং গত বছরের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নিহতদের বিচার দাবিতে রাস্তায় নামবেন।
সরকার নিযুক্ত একটি তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত ৫১৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে বিরোধী দল ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা কয়েক হাজার।
গত বছরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে তাদের শীর্ষ কয়েকজন প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান সে সময় দাবি করেছিলেন, সহিংস বিক্ষোভের মাধ্যমে তার সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করা হয়েছিল। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। তবে সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
আগামী সপ্তাহের বিক্ষোভ কর্মসূচি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন সরকার আয়োজিত দার এস সালাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহলের নজর আরও বাড়ছে।
