বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান, অভিবাসন, ভিসা সহজীকরণ, নারী ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী ভিদমান্তাস ভারবিকাস। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারি জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে শামা ওবায়েদ বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, ১৯৯২ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময় এবং সফট ডিপ্লোমেসি সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে লিথুয়ানিয়াকে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, আসবাবপত্র ও প্লাস্টিকপণ্য আমদানির আহ্বান জানান।
লিথুয়ানিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ নেওয়ার আহ্বানও জানান শামা ওবায়েদ। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
এ ছাড়া পরিবেশের অবক্ষয় ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিষয়েও দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার সম্পর্ক আরও গভীর করতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর এবং ব্যবসায়িক চেম্বারগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পাশাপাশি যুব ও শিক্ষার্থী বিনিময়, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া দলের সফর, পর্যটন সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার সম্পর্কের সম্ভাবনাময় নতুন ক্ষেত্রগুলো কাজে লাগানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
