মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা বেতন কত? বেতন, ওভারটাইম ও খরচের সম্পূর্ণ তথ্য

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা বেতন কত? বেতন, ওভারটাইম ও খরচের সম্পূর্ণ তথ্য

বাংলাদেশ থেকে অনেক মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। বিশেষ করে ফ্যাক্টরি, উৎপাদন, ইলেকট্রনিকস, প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, যন্ত্রাংশ তৈরি ও বিভিন্ন উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ থাকতে পারে।

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে বাংলাদেশি কর্মীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো—মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা বেতন কত?

এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে কাজের ধরন, কোম্পানি, কর্মীর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, কাজের সময়, অতিরিক্ত কাজের সুযোগ এবং চাকরির চুক্তির ওপর।

২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীরাও ন্যূনতম মজুরির অধিকারী। বর্তমানে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১,৭০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (RM)

 

 মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা বেতন কত?

মালয়েশিয়ায় ফ্যাক্টরি কর্মীদের বেতন নির্দিষ্ট একটি অঙ্ক নয়। কাজের ধরন, ফ্যাক্টরির ধরন, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, কাজের সময় এবং কোম্পানির বেতন কাঠামোর ওপর বেতন নির্ভর করতে পারে।

ফ্যাক্টরি কর্মীদের বেতন নির্ধারণে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

 

    • কাজের ধরন

    • ফ্যাক্টরির ধরন

    • কর্মীর অভিজ্ঞতা

    • কাজের দক্ষতা

    • কোম্পানির বেতন কাঠামো

    • কাজের ঘণ্টা

    • অতিরিক্ত সময়ের কাজ

    • ছুটির দিনে কাজ

    • রাতের শিফট

    • অন্যান্য ভাতা

২০২৬ সালের বর্তমান ন্যূনতম মজুরি অনুযায়ী, একজন বিদেশি কর্মীর আইনগত ন্যূনতম মাসিক মজুরি RM ১,৭০০। বিদেশি কর্মীরাও ন্যূনতম মজুরির পূর্ণ সুবিধার অধিকারী।

 

RM ১,৭০০ বাংলাদেশি টাকায় কত?

মালয়েশিয়ায় বেতন সাধারণত রিঙ্গিত বা RM-এ দেওয়া হয়।

যদি কোনো ফ্যাক্টরি কর্মীর মূল বেতন RM ১,৭০০ হয়, তাহলে বাংলাদেশি টাকায় এর মূল্য নির্ভর করবে ওই সময়ের মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ও বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হারের ওপর।

 

বাংলাদেশি টাকায় বেতন হিসাবের সূত্র

বাংলাদেশি টাকায় বেতন = মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত × বর্তমান বিনিময় হার

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বাংলাদেশি টাকায় সঠিক বেতন জানতে হিসাব করার দিনের বর্তমান বিনিময় হার ব্যবহার করা উচিত।

 

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরিতে কী ধরনের কাজ পাওয়া যায়?

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে কাজের ধরন অনুযায়ী বেতন ও দায়িত্ব আলাদা হতে পারে।

 

১. উৎপাদন কর্মী

কারখানার উৎপাদন লাইনে পণ্য তৈরি, যন্ত্র পরিচালনা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা।

 

২. প্যাকেজিং কর্মী

উৎপাদিত পণ্য প্যাকেট করা, লেবেল লাগানো এবং পণ্য সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা।

 

৩. মেশিন অপারেটর

নির্দিষ্ট যন্ত্র পরিচালনা করা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা।

 

৪. মান নিয়ন্ত্রণ কর্মী

কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের মান পরীক্ষা করা এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখতে সহায়তা করা।

 

৫. ইলেকট্রনিকস কারখানার কর্মী

ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ সংযোজন, পরীক্ষা এবং উৎপাদন লাইনের বিভিন্ন কাজে অংশ নেওয়া।

 

৬. খাদ্য উৎপাদন কর্মী

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণ এবং উৎপাদন লাইনের বিভিন্ন কাজে অংশ নেওয়া।

 

৭. গুদাম কর্মী

পণ্য গ্রহণ, সংরক্ষণ, গণনা এবং সরবরাহের জন্য পণ্য প্রস্তুত করা।

 

ফ্যাক্টরি কর্মীদের বেতন কেন ভিন্ন হয়?

একই মালয়েশিয়ায় কাজ করলেও দুইজন কর্মীর বেতন একই নাও হতে পারে। এর প্রধান কারণ হলো কাজের ধরন, দায়িত্ব ও দক্ষতার পার্থক্য।

একজন সাধারণ উৎপাদন কর্মী এবং একজন অভিজ্ঞ মেশিন অপারেটরের বেতন একই হওয়া জরুরি নয়।

 

বেতনকে প্রভাবিত করে যেসব বিষয়

 

    • অভিজ্ঞতা

    • কারিগরি দক্ষতা

    • মেশিন পরিচালনার দক্ষতা

    • কাজের দায়িত্ব

    • শিফট

    • ওভারটাইম

    • উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা

    • কোম্পানির নীতিমালা

তাই মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে চাকরির লিখিত চুক্তিতে মূল বেতন, কাজের সময় এবং ওভারটাইমের নিয়ম পরিষ্কারভাবে দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসায় ওভারটাইম করলে কত বেতন পাওয়া যায়?

 

ফ্যাক্টরির কাজে অনেক সময় মূল বেতনের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় কাজের সুযোগ থাকে। এই অতিরিক্ত সময়ের কাজকে সাধারণভাবে ওভারটাইম বলা হয়।

 

ওভারটাইমের কারণে মোট আয় কীভাবে বাড়ে?

ওভারটাইম থাকলে একজন কর্মীর মাসিক মোট আয় মূল বেতনের চেয়ে বেশি হতে পারে। তবে অতিরিক্ত আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে:

 

    • কত ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ করা হচ্ছে

    • সাধারণ কর্মদিবসে কাজ হচ্ছে কি না

    • সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ হচ্ছে কি না

    • সরকারি ছুটিতে কাজ হচ্ছে কি না

    • প্রযোজ্য শ্রম আইন

    • চাকরির চুক্তি

কোনো এজেন্ট যদি “মাসে RM ৩,০০০ বা RM ৪,০০০ নিশ্চিত” বলে, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ ওভারটাইমের পরিমাণ প্রতি মাসে একই নাও হতে পারে।

 

মালয়েশিয়ায় ফ্যাক্টরি কর্মীর বেতন থেকে কী কী কাটা যেতে পারে?

চাকরির চুক্তিতে উল্লেখ করা মোট বেতন এবং একজন কর্মীর হাতে পাওয়া বেতন সব সময় একই নাও হতে পারে। আইন অনুযায়ী অনুমোদিত কিছু কর্তন থাকতে পারে।

 

আবাসনের জন্য বেতন কর্তন

মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে বিদেশি কর্মীর আবাসনের জন্য মাসে সর্বোচ্চ RM ১০০ পর্যন্ত কর্তন করা যেতে পারে।

তবে চাকরির চুক্তিতে যদি আবাসন বিনামূল্যে দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকে, তাহলে আবাসনের জন্য বেতন কাটা যাবে না।

তাই চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে চুক্তিপত্র ভালোভাবে পড়া জরুরি

 

মালয়েশিয়ায় ফ্যাক্টরি কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা কে করে?

বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ওপর আবাসনের কিছু দায়িত্ব রয়েছে।

 

কোম্পানি কি থাকার ব্যবস্থা করে?

মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে ইচ্ছুক নিয়োগকর্তাকে বিদেশি কর্মীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে হয়।

তবে আবাসন বিনামূল্যে নাকি বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কেটে নেওয়া হবে, সেটি চাকরির চুক্তি এবং প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে।

 

মালয়েশিয়ায় ফ্যাক্টরি কর্মীর থাকা-খাওয়ার খরচ

মালয়েশিয়ায় কাজ করতে গেলে বেতনের পাশাপাশি মাসিক জীবনযাত্রার খরচও হিসাব করতে হবে।

 

প্রধান জীবনযাত্রার খরচ

 

    • খাবার

    • মোবাইল ও ইন্টারনেট

    • যাতায়াত

    • ব্যক্তিগত পণ্য

    • পোশাক

    • চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত খরচ

    • বিনোদন

    • অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয়

যদি কোম্পানি আবাসন এবং কিছু খাবারের ব্যবস্থা করে, তাহলে কর্মীর নিজের খরচ তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

তাই চাকরির অফার পাওয়ার সময় শুধু বেতন নয়, কোম্পানি কী কী সুবিধা দিচ্ছে সেটিও দেখা উচিত।

 

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসায় কী কী সুবিধা থাকতে পারে?

কোম্পানি এবং চাকরির চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সুবিধা থাকতে পারে।

 

সম্ভাব্য সুবিধা

 

    • আবাসন

    • পরিবহন

    • চিকিৎসা সুবিধা

    • খাবার বা খাবারের ভাতা

    • ওভারটাইম

    • ছুটির সুবিধা

  • কর্মস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা
 

তবে প্রতিটি কোম্পানিতে একই ধরনের সুবিধা থাকবে না। কোনো চাকরির বিজ্ঞাপনে সুবিধার কথা উল্লেখ থাকলে সেটি চাকরির চুক্তিতেও আছে কি না যাচাই করা উচিত।

 

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীর চাকরির চুক্তি থাকা কি জরুরি?

হ্যাঁ, বিদেশি কর্মীর চাকরির শর্তগুলো লিখিতভাবে জানা গুরুত্বপূর্ণ।

মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীর জন্য নিয়োগকর্তাকে চাকরির চুক্তি বা সেবা চুক্তি প্রদান করতে হয়।

 

চাকরির চুক্তিতে যেসব বিষয় দেখবেন

 

    • মূল বেতন

    • কাজের সময়

    • ওভারটাইম

    • ছুটির নিয়ম

    • আবাসন

    • বেতন থেকে কর্তন

    • চাকরির মেয়াদ

    • কাজের স্থান

    • অন্যান্য সুবিধা
    •  

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসায় বাংলাদেশি কর্মী যেতে পারে কি?

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি অনুমোদন ও প্রক্রিয়া রয়েছে।

 

ফ্যাক্টরি খাতে বিদেশি কর্মীর সুযোগ

মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত খাতগুলোর মধ্যে উৎপাদন বা ফ্যাক্টরি খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন নিতে হয়।

তবে কোন সময় কোন দেশ থেকে কত কর্মী নেওয়া হবে, কোন উপখাতে নিয়োগ খোলা থাকবে এবং আবেদন গ্রহণের নীতি কী হবে—এসব সরকারি নীতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।

তাই বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে সর্বশেষ সরকারি নিয়ম যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

 

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে নিয়োগকর্তার অনুমোদন লাগে কি?

হ্যাঁ।

নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে আগাম অনুমোদন নিতে হয়।

অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি শুধু ব্যক্তিগতভাবে মালয়েশিয়ায় গিয়ে ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু করতে পারবেন না। বৈধ নিয়োগকর্তা, অনুমোদিত নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাজের অনুমতি থাকতে হবে।

 

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসার জন্য এজেন্টকে কত টাকা দিতে হয়?

ভিসা বা বিদেশে চাকরির জন্য কোনো এজেন্টকে কত টাকা দিতে হবে—এর একটি সাধারণ সরকারি নির্ধারিত সংখ্যা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

 

সম্ভাব্য খরচ

মোট খরচের মধ্যে থাকতে পারে:

 

    • সরকারি ভিসা ও অনুমোদন ফি

    • চিকিৎসা পরীক্ষা

    • কাগজপত্র

    • যাতায়াত

    • বিমান টিকিট

    • নিয়োগ সংক্রান্ত বৈধ খরচ

    • অন্যান্য অনুমোদিত ব্যয়

কেউ যদি অস্বাভাবিকভাবে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে এবং বলে “এই টাকা দিলেই ভিসা নিশ্চিত”, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত।

চাকরির অফার, নিয়োগকর্তার নাম, বেতন, কাজের ধরন এবং চুক্তিপত্র যাচাই না করে টাকা দেওয়া উচিত নয়।

 

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসায় যাওয়ার আগে কী কী যাচাই করবেন?

বিদেশে চাকরিতে যাওয়ার আগে চাকরির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো যাচাই করা উচিত।

১. নিয়োগকর্তার নাম

কোন কোম্পানিতে কাজ করবেন তা পরিষ্কারভাবে জানুন।

২. কাজের ধরন

ফ্যাক্টরিতে ঠিক কী কাজ করতে হবে তা জেনে নিন।

৩. মূল বেতন

মাসে কত রিঙ্গিত মূল বেতন পাবেন তা চুক্তিতে দেখুন।

৪. ওভারটাইম

ওভারটাইম আছে কি না এবং কীভাবে হিসাব করা হবে তা জেনে নিন।

৫. আবাসন

কোম্পানি আবাসন দেবে কি না এবং এর জন্য বেতন থেকে টাকা কাটা হবে কি না জেনে নিন।

৬. কাজের সময়

প্রতিদিন ও সপ্তাহে কত ঘণ্টা কাজ করতে হবে তা বুঝে নিন।

৭. চুক্তির মেয়াদ

চাকরির চুক্তি কত বছরের তা যাচাই করুন।

৮. বৈধ কাজের অনুমতি

আপনার কাজের অনুমতি ও সংশ্লিষ্ট নথি বৈধ কি না নিশ্চিত করুন।

 

মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা পাসপোর্ট রাখতে পারে কি?

না।

মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখতে পারে না। এটি পাসপোর্ট আইনের অধীনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তাই চাকরিতে যাওয়ার আগে নিজের পাসপোর্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ নথির নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

 

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসায় বেতন পাওয়ার সময় কী খেয়াল করবেন?

বেতন পাওয়ার পর কর্মীর উচিত নিজের বেতন হিসাব বুঝে নেওয়া।

বেতন পাওয়ার সময় যেসব বিষয় দেখবেন

 

    • মূল বেতন কত

    • ওভারটাইম কত

    • কোন কর্তন করা হয়েছে

    • আবাসনের জন্য টাকা কাটা হয়েছে কি না

    • অন্যান্য ভাতা কত

    • হাতে মোট কত টাকা এসেছে

মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীদের বেতন ন্যূনতম মজুরি অনুযায়ী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদানের শর্তও নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

 

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসায় মাসে কত টাকা সঞ্চয় করা যায়?

মাসে কত টাকা সঞ্চয় করা যাবে, তা ব্যক্তিভেদে সম্পূর্ণ আলাদা।

ধরুন একজন কর্মীর মূল বেতন RM ১,৭০০। এরপর যদি ওভারটাইম থাকে, মোট আয় বাড়তে পারে। আবার খাবার, ব্যক্তিগত খরচ, যাতায়াত এবং অন্যান্য ব্যয় বাদ দিলে সঞ্চয়ের পরিমাণ কমে যাবে।

 

সঞ্চয়ের সহজ হিসাব

সঞ্চয় = মোট বেতন + ওভারটাইম/ভাতা − খাবার − ব্যক্তিগত খরচ − যাতায়াত − অন্যান্য কর্তন

কেউ যদি পরিবারের জন্য টাকা পাঠাতে চান, তাহলে বিদেশে যাওয়ার আগে মাসিক বাজেট তৈরি করা ভালো।

 

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা বেতন কত সহজ হিসাব

 

২০২৬ সালের বর্তমান ন্যূনতম মাসিক মজুরি:

ন্যূনতম বেতন: RM ১,৭০০

চাকরির ধরন ও চুক্তি অনুযায়ী মোট মাসিক আয় হিসাব করা যায়:

মূল বেতন + ওভারটাইম + প্রযোজ্য ভাতা = মোট মাসিক আয়

এরপর সম্ভাব্য সঞ্চয়:

মোট আয় − বৈধ কর্তন − ব্যক্তিগত খরচ = সম্ভাব্য সঞ্চয়

তাই শুধু বিজ্ঞাপনে দেওয়া মাসিক আয়ের অঙ্ক দেখে চাকরি নির্বাচন না করে পুরো বেতন কাঠামো বুঝে নেওয়া উচিত।

 

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা বেতন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে প্রতারণার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই চাকরির অফার যাচাই করার সময় সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

 

    • ভুয়া চাকরির অফার

    • ভুয়া ভিসা

    • ভুয়া নিয়োগপত্র

    • অতিরিক্ত এজেন্ট ফি

    • বেতনের ভুল তথ্য

    • ওভারটাইমের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি

    • কাজের ধরন গোপন করা

    • চুক্তিপত্র না দেওয়া

    • পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

কোনো টাকা দেওয়ার আগে চাকরির অফার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করা উচিত।

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা বেতন কত এর উত্তর নির্ভর করে কাজের ধরন, কোম্পানি, কর্মীর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, ওভারটাইম এবং চাকরির চুক্তির ওপর।

২০২৬ সালের বর্তমান ন্যূনতম মাসিক মজুরি RM ১,৭০০। এর সঙ্গে ওভারটাইম বা অন্যান্য প্রযোজ্য সুবিধা থাকলে একজন কর্মীর মোট মাসিক আয় আরও বেশি হতে পারে। তবে ওভারটাইমকে নিশ্চিত আয় হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

মালয়েশিয়ায় ফ্যাক্টরি চাকরিতে যাওয়ার আগে শুধু বেতন নয়, চাকরির চুক্তি, কাজের ধরন, কাজের সময়, ওভারটাইম, আবাসন, বেতন থেকে কর্তন এবং বৈধ কাজের অনুমতি সবকিছু যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো এজেন্টের কথায় শুধু বেতনের অঙ্ক শুনে টাকা না দিয়ে চাকরির অফার, নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করে তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

 

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা বেতন কত: সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

 

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা বেতন কত?

২০২৬ সালের বর্তমান ন্যূনতম মাসিক মজুরি RM ১,৭০০। তবে নির্দিষ্ট ফ্যাক্টরি ও কাজ অনুযায়ী বেতন এর চেয়ে বেশি হতে পারে।

 

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক কি ন্যূনতম মজুরি পায়?

হ্যাঁ। বিদেশি কর্মীরাও ন্যূনতম মজুরির পূর্ণ সুবিধার অধিকারী।

 

ওভারটাইম করলে কি বেতন বাড়ে?

ওভারটাইম করলে মোট আয় বাড়তে পারে। তবে কতটা বাড়বে তা কাজের সময়, ওভারটাইমের হার, ছুটির দিনে কাজ এবং চাকরির চুক্তির ওপর নির্ভর করে।

 

ফ্যাক্টরি কর্মীদের থাকা কি কোম্পানি দেয়?

বিদেশি কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার আবাসনের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্তে আবাসনের জন্য মাসে সর্বোচ্চ RM ১০০ পর্যন্ত কর্তন করা যেতে পারে। তবে চুক্তিতে আবাসন বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলে এই কর্তন করা যাবে না।

 

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীর চাকরির চুক্তি থাকা দরকার কি?

হ্যাঁ। নিয়োগকর্তাকে বিদেশি কর্মীর জন্য চাকরির চুক্তি বা সেবা চুক্তি প্রদান করতে হয়।

 

মালয়েশিয়ার ফ্যাক্টরি খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা হয় কি?

উৎপাদন বা ফ্যাক্টরি খাত বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমোদিত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে নিয়োগ সরকারি অনুমোদন এবং বর্তমান নীতির অধীন।

 

মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা কি কর্মীর পাসপোর্ট রাখতে পারে?

না। মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখতে পারে না।

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *