মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙার ঘটনাকে সমর্থন করে বা ‘সংস্কারের উদ্দেশ্যে’ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভাঙা হয়েছে—এমন কোনো বক্তব্য তিনি দেননি বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে প্রচারিত এমন বক্তব্যকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘দখল নয়, সংস্কারের উদ্দেশ্যেই রাতে ভাঙা হয়েছে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র’—এমন বক্তব্য তার নামে প্রচার করা হচ্ছে। তবে তিনি কখনো এ ধরনের বক্তব্য দেননি।
তিনি জানান, মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার প্রধান উদ্বেগ ছিল দ্রুত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সংস্কার ও পুনর্ব্যবস্থাপনা শুরু করা এবং মা ও শিশুদের টিকাদানসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা যেন বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করা।
এ লক্ষ্যে ফ্যান, পর্দা, চেয়ার ও টেবিলসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে সহযোগিতা করেছেন বলেও জানান তিনি।
রাড্ডা টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে তুলি বলেন, তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, তার দেওয়া বক্তব্য, বক্তব্যের ভিডিও এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে পাশ কাটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পেজ থেকে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে তার নামে মনগড়া বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। এতে একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্য বিকৃত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি জনস্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনাস্থা তৈরি হতে পারে।
সানজিদা ইসলাম তুলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কোনো ফটোকার্ড, পোস্ট বা বক্তব্য শেয়ার করার আগে এর উৎস ও সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান।
তার বিবৃতিতে বলা হয়, রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও কয়েকজন তার ছবি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এলাকার সচেতন নাগরিকদের প্রতি তিনি গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে দায়িত্বশীলভাবে মতামত দেওয়ার এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
তুলি বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি বা অপতথ্য না ছড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার কাজে সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
জনস্বার্থ ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
