দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই বলায় মানুষ হাসবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত দুই-চার দিনে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তার দাবি, গণমাধ্যমের গাড়িতে হামলা, বাড়িঘরে ভাঙচুর, কয়েক ঘণ্টা ধরে গুলি চালিয়ে লুটপাট এবং মানুষকে আহত করার মতো ঘটনা ঘটছে।
তার ভাষ্য, এসব ঘটনার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি বলেন, তাহলে এমন বক্তব্য নিয়ে মানুষের মধ্যে হাস্যরস তৈরি হবে।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, জনগণের জানমাল ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু মন্ত্রী সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও গণমাধ্যমে হামলা এবং সাংবাদিক আহত হওয়ার মতো ঘটনার পরও উদ্বেগের কারণ নেই—এমন বক্তব্য কোনো দায়িত্বশীল মন্ত্রীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয় বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারপ্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের নিজ নিজ বিভাগের দায়িত্ব পালনে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি দাবি করেন, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এই আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে।
রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারের পদ্ধতি নিয়েও সরকারের উদ্যোগের সমালোচনা করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, সরকার একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে মানুষ নিরাপদ বোধ করছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে কলকারখানার উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব বিষয়ে সরকার কীভাবে এতটা নির্লিপ্ত থাকতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তারা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। পাশাপাশি এসব ঘটনার সঙ্গে সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী-এমপি জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান।
