আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের রংপুর অভিমুখী লংমার্চ আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের পর এটি জোটের দ্বিতীয় বড় কর্মসূচি। এবারের কর্মসূচিতে জাতীয় দাবির পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে।
জোটের নেতারা রংপুরের কর্মসূচিতে বড় জমায়েতের প্রত্যাশা করছেন। তাঁদের দাবি, রংপুর জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশে তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে। ঢাকা থেকে যাত্রা করা গাড়িবহরের সঙ্গে পথে বিভিন্ন জেলা থেকে আরও গাড়ি যুক্ত হয়ে সংখ্যা এক হাজার ছাড়াতে পারে বলেও তাঁরা জানিয়েছেন।
লংমার্চে সরকার ও প্রশাসনকে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা। একই সঙ্গে নেতা-কর্মীদের উসকানির মুখে ধৈর্য ও সংযম দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জোটের সূত্র অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াত ১৭টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দুটি আসনে জয় পায়। জোটগতভাবে তাদের জয় হয় ১৯টি আসনে। বিএনপি জয় পায় ১৩টি আসনে এবং একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন।
জোটের নেতারা মনে করেন, এই নির্বাচনী ফল রংপুর অঞ্চলে তাঁদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থানের শক্তির বিষয়টি তুলে ধরে। সেই অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই লংমার্চে বড় জমায়েতের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে ১১ দল ছয় দফা দাবি সামনে রেখেছিল। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।
রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে আরও দুটি দাবি যুক্ত হয়েছে—দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। ফলে জাতীয় রাজনৈতিক দাবির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ইস্যুও এবারের কর্মসূচিতে স্থান পেয়েছে।
সকাল সাতটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। সকাল আটটায় গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
পথে সকাল ৯টায় গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোড, সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোড, দুপুর ১২টায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বিকেল ৪টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় এবং বিকেল সাড়ে ৫টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথায় পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে।
সন্ধ্যা সাতটায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিভিন্ন কারণে সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। লংমার্চের কারণে সম্ভাব্য জনদুর্ভোগের জন্যও আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন জোটের নেতারা।
সমাবেশ ও পথসভাগুলোতে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।
লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে শুক্রবার সকালে ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের নেতারা বৈঠক করেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, কর্মসূচিতে এক হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হবে।
সরকার ও প্রশাসনের প্রতি কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁরা কোনো উসকানিতে পা দেবেন না। কোনো আঘাত এলেও প্রতিশোধ না নিয়ে কর্মসূচি সফল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
১১-দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে আরও দুটি লংমার্চ হওয়ার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা ও সিলেট—এই চার অঞ্চলের দিকে ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
জোটের সূত্র অনুযায়ী, লংমার্চ ও সমাবেশের মাধ্যমে জাতীয় রাজনৈতিক দাবিগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে সরকারকে চাপ দেওয়ার বিষয়টিও কর্মসূচির অংশ। ঘোষিত চারটি লংমার্চ শেষে আরও কিছু বিভাগীয় শহরে কর্মসূচি নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে জোটের সূত্র।
