কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়েক শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তুহিনের পর আনাস ও ফাহিম নামে আরও দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে প্রথমে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁর কাছ থেকে আনাস ও ফাহিমের নাম পাওয়া যায়। তাঁদের দুজনকেও এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।
শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। পরে তাঁর বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের পরদিন শনিবার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থানে অপ্রতিমের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী। তিনি সেখানে বাঁশ কাটতে গিয়ে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় ওই বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহের মাথার দিকে রক্ত দেখা গিয়েছিল। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও এখনো পাওয়া যায়নি।
অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাথমিক ধারণা। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর কোটবাড়িতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মা ড. নাহিদা বেগম ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ছেলের কী অপরাধ ছিল, সে প্রশ্ন তুলে ঘটনার জবাব দাবি করেন।
অপ্রতিমের বাবা এ কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারও ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর কাছে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনের জন্যই ছেলে হত্যার শিকার হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন।
