সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী পিতলের ডেগে জমা হওয়া অর্থ চতুর্থবারের মতো গণনা শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এ গণনা শুরু হয়। মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নির্ধারণে গঠিত কমিটির ব্যবস্থাপনায় এ কার্যক্রম চলছে।
গণনায় মাদরাসাশিক্ষার্থী, মাজার কমিটির সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা অংশ নিয়েছেন। চতুর্থবারের মতো অর্থ গণনা শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট সর্বশেষ দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন গণনা শেষে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এ সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রার পাশাপাশি সোনা ও রুপার গহনাও পাওয়া যায়।
গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে গণনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের ডেগ ও দানবাক্স সিলগালা করার চার দিন পর ওই গণনায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সাত আনা সোনাসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বার প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়। তখন পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। পাশাপাশি ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম সোনাসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপা পাওয়া যায়। এছাড়া দানবাক্সে একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল পাওয়া যায়।
এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে মাজারের ভক্ত ও অনুরাগীদের খাওয়ানো হয়েছে। বাকি ২৫টি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া যায় ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।
মাজার পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের হিসাব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সিলেটের এই মাজারে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা আসেন। তাদের অনেকে দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সামগ্রী দান করেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর এসব দানবাক্স খোলা হয়।
