কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বর্তমান ডিজিটাল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাগত প্রয়োজনে এআই টুল ও চ্যাটবটের ব্যবহার বাড়ছে। তবে এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তথ্যের নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে।
কোনো এআই টুল বা চ্যাটবট ব্যবহারের আগে তাই কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
এআই প্ল্যাটফর্মে প্রম্পট বা কমান্ড হিসেবে দেওয়া তথ্য অনেক সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে সংরক্ষিত হতে পারে এবং মডেলের মান উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই ব্যাংক হিসাব নম্বর, পিন কোড, পাসওয়ার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর কিংবা অফিসের গোপনীয় ও সংবেদনশীল নথি এআই টুলে শেয়ার করা উচিত নয়।
সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সবসময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এআই টুল অনেক সময় আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ভুল, ভুয়া বা পুরোনো তথ্য দিতে পারে। প্রযুক্তির ভাষায় এ ধরনের ভুল তথ্যকে ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়।
বিশেষ করে চিকিৎসা, আইনি পরামর্শ বা আর্থিক লেনদেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এসব তথ্য নির্ভরযোগ্য ও পেশাদার উৎস থেকে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
নতুন কোনো এআই টুল বা অ্যাপ ব্যবহারের আগে সেটির নিয়মাবলি ও প্রাইভেসি পলিসি পড়ে নেওয়া উচিত। কারণ কিছু অ্যাপ ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং আচরণ, অবস্থান বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তা তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারে।
অ্যাকাউন্ট খোলার সময় টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় ডাটা শেয়ারিংয়ের সুযোগ বন্ধ রাখা নিরাপত্তার জন্য সহায়ক।
জেনারেটিভ এআইয়ের মাধ্যমে বর্তমানে বাস্তবসম্মত ছবি ও ভিডিও তৈরি করার পাশাপাশি মানুষের কণ্ঠস্বরও হুবহু নকল করা সম্ভব। এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবার অপরাধীরা ভুয়া তথ্য ছড়ানো, পরিবারের সদস্য সেজে আর্থিক প্রতারণা এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো অপরাধ করতে পারে।
তাই সন্দেহজনক কোনো তথ্য, ছবি, ভিডিও বা কণ্ঠস্বর দেখলে কিংবা শুনলে যাচাই না করে তা বিশ্বাস করা উচিত নয়।
এআইকে কাজের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা কার্যকর হলেও এর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়লে মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা যদি বাড়ির কাজ বা লেখালেখির পুরো দায়িত্ব এআইয়ের ওপর ছেড়ে দেয়, তাহলে তাদের নিজস্ব মেধা বিকাশের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই এআইকে সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাই শ্রেয়।
