সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগে জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের দলের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সেই অবস্থানের বাস্তব প্রয়োগ করেছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের আগে বলেছিলেন, অপরাধে জড়িত ব্যক্তি যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত বুধবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আসার পর তাকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দলীয়ভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকার সময় থেকেই দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গত দুই বছরে সহস্রাধিক বিএনপি নেতা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছেন বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও দলীয়ভাবে ব্যবস্থা না নেওয়ার একটি প্রবণতা অতীতে ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নিজের দলের নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতি হতে পারে—এমন ধারণার কারণে অনেক সময় অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের অবস্থানের কারণে রাজনীতিতে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে আপস না করার নীতি নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে এটিকে দলের অভ্যন্তরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থানের একটি উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে সোর্সে উল্লিখিত এসব মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা প্রতিবেদনের নিজস্ব বক্তব্য; এগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
