হরমুজ প্রণালি এলাকায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত হেনেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিও শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি যুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, প্রথম হামলায় ট্যাংকারটিতে অল্প পরিমাণে আগুন ধরে যায় এবং জাহাজটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন—এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পরিবেশের ওপরও কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জাহাজটি হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। পরে সেটি আবার যাত্রা শুরু করতে সক্ষম হয়। তবে জাহাজটি কোথা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল বা এর গন্তব্য কোথায় ছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি ইউকেএমটিও।
প্রথম ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ওমানের পূর্বে অপরিশোধিত তেলবাহী আরেকটি ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত হেনেছে বলে জানায় ইউকেএমটিও।
সংস্থাটি জানিয়েছে, দ্বিতীয় জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদে আছেন। এ ঘটনায় পরিবেশের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।
দুটি ঘটনারই তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত অচল করে দিয়েছে। অনুমতি ছাড়া প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে কয়েকটি জাহাজে হামলাও চালিয়েছে তেহরান।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে। তেহরানের তেল রপ্তানি বন্ধ রাখাই ওয়াশিংটনের লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
