নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের এক নারীর বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রায় ২২ বছর পর প্রতিশোধ নিতে ইতালিতে গিয়ে সাবেক প্রেমিকা, তাঁর স্বামী ও পাঁচ বছরের মেয়েকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে। গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রাজধানী রোমে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, পুলিশ সূত্র ও নিহতদের স্বজনদের বরাতে জানা গেছে।
জানা যায়, শাহাদাতের সঙ্গে আরজু আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে বিয়ের প্রস্তাব আরজুর পরিবার গ্রহণ না করে ইতালিপ্রবাসী কামাল উদ্দিন বাবুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেয়। পরে কামাল স্ত্রী আরজুকে নিয়ে ইতালিতে চলে যান। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাঁদের তিন সন্তানের জন্ম হয়।
অন্যদিকে, ওই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি শাহাদাত। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি আরজুর পরিবারের খোঁজ রাখতেন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শাহাদাত ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর ইংল্যান্ডে যান। পরে কিছুদিন আগে অবৈধভাবে ইতালির রোমে পৌঁছে আরজুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নিজেকে দূর সম্পর্কের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তিনি পরিবারের আস্থা অর্জন করেন বলে জানা গেছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, ২৬ জুন রাতে শাহাদাত ওই বাসায় গিয়ে প্রথমে আরজুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা বা চিৎকার করার সময় পাঁচ বছরের আরিশাকেও হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তিনি ঘরের রক্তের দাগ পরিষ্কার করে লাশগুলো আড়াল করে রাখেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
কিছুক্ষণ পর আরজুর স্বামী কামাল উদ্দিন কাজ শেষে বাড়িতে ফিরলে তাঁকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
পরে বাড়িতে ফেরেন তাঁদের ২০ বছর বয়সী বড় ছেলে আয়ান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘরে ঢোকার পর তিনি শাহাদাতকে স্বাভাবিকভাবে বসে থাকতে দেখেন। শাহাদাত তাঁকে জানান, তাঁর মা-বাবা ঘুমিয়ে আছেন। তবে মা-বাবার ঘরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আয়ান খাটের নিচে তাঁর ছোট বোন আরিশার একটি পা দেখতে পান। এতে তিনি ঘটনাটি বুঝতে পারেন। এ সময় শাহাদাত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপরও হামলা করেন।
আয়ান রক্তাক্ত অবস্থায় ঘর থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের সাহায্যের জন্য চিৎকার করলে শাহাদাত পালিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ইতালির সংবাদমাধ্যম ইল মেসাজ্জেরো জানিয়েছে, শাহাদাত ইতালি ছেড়ে ইংল্যান্ডে পালানোর চেষ্টা করে থাকতে পারেন। সেখানে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে বসবাস করেন। তবে তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ইতালি পুলিশ বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। গতকাল শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ড বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ইতালির সংবাদমাধ্যম ফ্যানপোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা শাহাদাত আত্মহত্যা করতে পারেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁর ফেসবুক পোস্টে কিশোর কুমারের ‘মেরা জীবন কোরা কাগজ’ গানটি শেয়ার করা এবং রহস্যময় একটি বার্তা দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
