সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত দুজনকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে সড়কে ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁরা আওয়ামী লীগের ‘দুষ্কৃতকারী’ কেউ হতে পারেন। তবে বিষয়টি সরকার তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। রায়ের পর বেলা ১টা ১৫ থেকে ১টা ২০ মিনিটের মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনাকে রায়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রায়ের পর এই প্রতিক্রিয়া এসেছে।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাটি বড় কোনো বিষয় নয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্নটি এড়িয়ে যান। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার মনে করে এতে সুবিচার হয়েছে এবং আদালতের রায়ের বিষয়ে সরকারের কোনো মন্তব্য নেই।
এদিকে, গত শুক্রবার গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা চালায়। ওই মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও পুলিশ ওই সময়ে সেখানে মিছিল হতে পারে—এটি ধারণা করতে পারেনি। তবে এটিকে গোয়েন্দা ব্যর্থতা বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ভিন্ন তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন যে সময়ের কথা জানিয়েছে, সেটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
