প্রস্তুতির ঘাটতি ও সূচি নিয়ে অসন্তুষ্টির মধ্যেই আজ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম। ৩ সেপ্টেম্বর দলবদল শেষ হলেও বেশ কয়েকটি ক্লাব পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ পায়নি। অনেক দলের বিদেশি খেলোয়াড়ও এখনো যোগ দেননি।
বাফুফে আগে ২১ আগস্ট চ্যালেঞ্জ কাপ, ২৫ আগস্ট ফেডারেশন কাপ এবং ২৮-২৯ আগস্ট লিগের প্রথম রাউন্ড শুরুর সূচি দিয়েছিল। তবে বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনীর ফিফার দলবদল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্ধারিত সময়ে কোনো প্রতিযোগিতাই মাঠে গড়ায়নি। পরে চ্যালেঞ্জ কাপ বাতিল করে ১২ সেপ্টেম্বর নতুন সূচি ঘোষণা করা হয়।
নতুন সূচি ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই লিগ শুরু হওয়ায় অধিকাংশ ক্লাবই প্রস্তুতির ঘাটতির কথা জানিয়েছে। ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান জানান, দলের প্রস্তুতি ভালো হয়নি এবং বিদেশি খেলোয়াড়দেরও এখনো আনা সম্ভব হয়নি।
রহমতগঞ্জের সভাপতি টিপু সুলতান বলেন, খেলোয়াড়েরা মাত্র ছয় দিন অনুশীলন করেছেন। বিদেশি খেলোয়াড়রা আগামী সপ্তাহে আসবেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আপাতত তাদের ছাড়াই দলকে খেলতে হবে।
আবাহনী লিমিটেডও একই ধরনের সমস্যায় রয়েছে। দলের কোচ মারুফুল হক জানান, জাতীয় দলের ক্যাম্পে তাঁদের চারজন খেলোয়াড় রয়েছেন এবং বিদেশি খেলোয়াড়রাও এখনো আসেননি।
খেলোয়াড়দের মধ্যেও প্রস্তুতির সময় নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি ক্লাবের ডিফেন্ডার মেহেদী হাসান জানান, খেলার আগের দিন মাত্র অনুশীলন শুরু করেছেন তাঁরা। তাঁর মতে, এত অল্প প্রস্তুতিতে ম্যাচ খেলা কঠিন।
এবার জাতীয় দলের ম্যাচের সময়ের মধ্যেই ঘরোয়া ফুটবল চলবে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত আসিয়ান কাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে বিভিন্ন ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়েরা জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকবেন। ফলে ওই সময়ে কয়েকটি দল তাঁদের ছাড়াই ম্যাচ খেলবে। বিষয়টি নিয়েও ক্লাবগুলোর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা নয় খেলোয়াড়কে নিয়ে বিশেষ সমস্যা তৈরি হয়েছিল। ক্লাবটি তাঁদের ১৪ সেপ্টেম্বর ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। পরে বাফুফের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের ম্যাচের সূচি পরিবর্তন করা হয়। ফলে মোহামেডানের প্রথম ম্যাচ ৫ অক্টোবরের পর অনুষ্ঠিত হবে।
সূচি তৈরির প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি ক্লাব। আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী বলেন, বসুন্ধরা কিংসের জন্য সূচি কয়েকবার পেছানো হলেও তাঁদের ১০টি ক্লাবের আবেদন নিয়ে আলোচনা করা হয়নি।
পিডব্লুডি স্পোর্টস ক্লাবের টিম ম্যানেজার ইফতেখারুল ইসলামও জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর সূচি দিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর ম্যাচ খেলতে নামা কঠিন। তাঁদের সব বিদেশি খেলোয়াড়ও এখনো আসেননি।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর দেশের শীর্ষ লিগে অংশ নেওয়া ১০টি ক্লাব বাফুফেকে চিঠি দিয়ে মৌসুমের সূচি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। চিঠিতে পরোক্ষভাবে লিগ পেছানোর দাবি জানানো হলেও বাফুফে ঘোষিত সূচিতে আর পরিবর্তন করেনি।
এবারের বাংলাদেশ ফুটবল লিগে দলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩টি। সর্বশেষ ২০১০-১১ মৌসুমে ১৩ দলের লিগ হয়েছিল। এবারের লিগে ম্যাচ হবে সাতটি ভেন্যুতে এবং নতুন ভেন্যু হিসেবে যুক্ত হয়েছে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়াম।
ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ও ঢাকা ওয়ান্ডারার্স চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামকে নিজেদের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করবে। অন্যদিকে ফেডারেশন কাপের সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে।
এবার স্থানীয় খেলোয়াড়দের সুযোগ বাড়াতে সাফ অঞ্চলের ফুটবলারদের ‘স্থানীয়’ হিসেবে নিবন্ধনের কোটা পাঁচজন থেকে কমিয়ে তিনজন করা হয়েছে। নতুন মৌসুমের শুরুতে এসব পরিবর্তনের পাশাপাশি ক্লাবগুলোর প্রস্তুতির ঘাটতি ও সূচি নিয়ে অসন্তোষই আলোচনায় রয়েছে।
