বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের অধিকার হরণ ও গণতন্ত্র ধ্বংস করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, অতীতে যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে গেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা থেকে চলে যাবেন।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ঢাকা থেকে রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমানকে ঠিক করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমান হেলিকপ্টারে করে দেশ ছাড়বেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন—সেটি তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি এ ক্ষেত্রে এরশাদের পদত্যাগের উদাহরণও দেন।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে সরকার গুম আইন ও মানবাধিকার আইন পাস করেছে এবং র্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসআরবি করেছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারের দায়িত্ব মানবাধিকার সুরক্ষা দেওয়া হলেও তারা মানবাধিকার হরণের পরিস্থিতি তৈরি করছে।
শেখ হাসিনার সরকার যেসব আইন ও প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে জনগণের অধিকার হরণ করেছে, বর্তমান সরকারও সেসব আইন ও প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চকে ঘিরে গণজোয়ার শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই গণজোয়ার ঠেকাতে শুক্রবার রাত থেকে লংমার্চের পথে ১১–দলীয় ঐক্যের ব্যানার ও ফেস্টুন ছেঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এ কাজে বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনও যুক্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে লংমার্চের গণজোয়ার বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চের দাবির সংখ্যা বাড়ছে। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত সব দফা এক দফায় গিয়ে ঠেকবে। এ জন্য ১১–দলীয় ঐক্যের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উদ্বোধনী সমাবেশে নাহিদ ইসলাম ছাড়াও ১১–দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশে সমাপনী বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
