কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম।
ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা নাহিদা বেগম। শনিবার কোটবাড়ি এলাকায় তাঁদের বাসায় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী গেলে তিনি সন্তানের মৃত্যুর জবাব দাবি করেন।
নাহিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁর ছেলে কী অন্যায় করেছে, তিনি তার জবাব চান। কুমিল্লায় চাকরি করতে আসাটাই কি তাঁর অন্যায়—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তাঁর একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কীভাবে জীবন কাটাবেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। ছেলেকে হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।
নাহিদার কান্না দেখে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকেও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। পরে তিনি অপ্রতীমের পরিবারকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়ে সান্ত্বনা দেন।
গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতীম। মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর সে আর বাসায় ফেরেনি।
অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তাঁর বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পুলিশ অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইলের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁর সন্ধানের চেষ্টা চালানো হয়।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতীম কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ছেলে। সে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে। অপ্রতীমের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে তার সন্ধান চালিয়েছিলেন।
