বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময় নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে। আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সফরটি আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা কথাবার্তা বলছেন বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক ধারায় ফেরাতে কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর অংশ হিসেবেই সম্ভাব্য এই সফরের সময় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এর আগে শুক্রবার ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, নভেম্বর মাসে তারেক রহমানের ভারত সফরের আয়োজনের চেষ্টা চলছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, গত আগস্টে তারেক রহমানকে দিল্লিতে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সফর অনুষ্ঠিত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই বছর পূর্তিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি থেকে অডিও লিংকের মাধ্যমে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার পর বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমানের ভারত সফর পিছিয়ে যায়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তাঁকে একক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। বর্তমানে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফর নিয়ে আলোচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই পক্ষ এমন একটি তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করছে, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়সূচির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে আছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছে।
তারেক রহমানের ভারত সফরের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঢাকার অন্যতম বিবেচনা হলো সফরের জন্য একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্যের বিষয়টি এর সঙ্গে যুক্ত।
বাংলাদেশ চাইছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে ভারত কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা স্পষ্ট করুক। তবে ভারত এখনো এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো জবাব দেয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধটি ‘পর্যালোচনা করা হচ্ছে’। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও আলোচনায় রাখতে চায় ভারত বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের গুরুত্ব সম্পর্কে দুই পক্ষই সচেতন। সফরের আয়োজন এবং দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখন আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে।
