রাশিয়ার প্রতিবাদী ব্যান্ড ‘পুসি রিওট’-এর সাবেক সদস্য ও শিল্পী রিটা ফ্লোরেস দাবি করেছেন, দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির কর্মকর্তারা তাকে প্রায় তিন বছর ধরে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেছেন। গত আগস্টের শেষে রাশিয়া ছাড়ার পর তিনি এসব তথ্য প্রকাশ্যে আনেন।
২৯ বছর বয়সি রিটা আইনজীবী দিমিত্রি জাখভাতভের সঙ্গে এক ভিডিও আলোচনায় তার অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, এফএসবির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে অন্যদের উৎসাহিত করতেই তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। তবে রিটার অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি দ্য গার্ডিয়ান।ব্ল্যাকমেল করে নিয়োগের অভিযোগ
রিটা জানান, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের একটি তল্লাশির পর দুই ব্যক্তি নিজেদের এফএসবি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাকে সহযোগিতায় বাধ্য করেন। ইউক্রেনে রুশ হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া একটি পোস্টের জন্য তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সহযোগিতা না করলে তার মাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
রিটার ভাষ্য অনুযায়ী, ভয় ও পরিবারের নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি তাদের কথায় রাজি হন। সহযোগিতার চুক্তিতে সই করার পর তাকে এককালীন ৩০ থেকে ৪০ হাজার রুবল দেওয়া হয়।
রিটার দাবি, এফএসবির হয়ে তার প্রথম কাজ ছিল পরিচিত বিরোধী মনোভাবাপন্ন শিল্পীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে গোয়েন্দাদের দেওয়া। তাকে নিয়োগ দেওয়া দুই কর্মকর্তা পরে তার নিয়মিত ‘হ্যান্ডলার’ হিসেবে কাজ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা ‘ভালো পুলিশ, মন্দ পুলিশ’ কৌশল ব্যবহার করতেন। একজন কর্মকর্তা তাকে নিয়মিত হুমকি ও অপমান করলেও অন্যজন বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতেন।
রিটা আরও দাবি করেন, গত বছরের মে মাসে এফএসবি কর্মকর্তারা পুসি রিওটের সঙ্গে যুক্ত অ্যাক্টিভিস্ট পিভোর ভেরজিলভ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। ভেরজিলভ তখন ইউক্রেনে অবস্থান করছিলেন।
রিটার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে ভেরজিলভের ইউক্রেনের ঠিকানা সংগ্রহ এবং সার্বিয়ায় একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করতে বলা হয়। সেখানে তাকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা ছিল বলে তিনি দাবি করেন। এ কাজে সহায়তার জন্য তাকে মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার রুবল দেওয়া হতো বলেও জানান তিনি।
এরপর রিটা পালানোর পরিকল্পনা করেন বলে জানান। গত সেপ্টেম্বরে তিনি তার সঙ্গীকে বিয়ে করেন। তার দাবি, সার্বিয়া সফর এড়ানোর জন্য তিনি বিয়েটিকেও কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেন।
শেষ পর্যন্ত আইনজীবীর সহায়তায় গত আগস্টের শেষে রাশিয়া ছাড়তে সক্ষম হন রিটা। দেশ ছাড়ার পর তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন।
রিটার এই বক্তব্য প্রকাশের পর সাবেক বিরোধী গোষ্ঠীর কেউ কেউ তার সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। আবার দীর্ঘ সময় ধরে গোয়েন্দাদের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য কেউ কেউ তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন।
