দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুদ্দোহা সরকার আদালতে এ আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মরিয়ম গলায় ফাঁস দেওয়ার সময় আসামিরা বাসায় উপস্থিত ছিলেন। আত্মহত্যার পেছনে তাঁদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো প্ররোচনা ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
পুলিশ আরও বলেছে, মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় সহায়তা করার ক্ষেত্রে আসামিদের নির্দিষ্ট ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্তে বের করা দরকার।
মামলার পলাতক আসামি গাড়িচালক ওবায়দুল ইসলামের ভূমিকা সম্পর্কেও গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্যও তাঁদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
ঘটনার সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি বা অজ্ঞাতনামা আসামি জড়িত রয়েছেন কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখতে চায় পুলিশ। সবশেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের বিষয়গুলো উদ্ঘাটনের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিমান্ড শুনানির জন্য সোমবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পুলিশি পাহারায় গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে আদালতে নেওয়া হয়। পরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা ছিল।
মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। এরপর তাঁরা শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন। সেখানে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও বসবাস করতেন।
এজাহারে মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। পরিবারের দাবি, মরিয়ম ফোনে একাধিকবার এসব নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন।
২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। পরে তিনি মরিয়মের খালা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। জানালা দিয়ে মরিয়মকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে পিডব্লিউডির কর্মী সাইদুল ইসলাম সাবল দিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন।
পুলিশ মরিয়মের বিছানা থেকে হাতে লেখা একটি চিঠি উদ্ধার করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সেখানে বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক কষ্ট ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা লেখা ছিল।
মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, গাড়িচালক ওবায়দুল ইসলামের মধ্যস্থতা ও প্ররোচনায় তাঁর সঙ্গে গাজী নজরুলের বিয়ে হয়েছিল। পরিবারের দাবি, পরবর্তী সময়ে নির্যাতন ও প্ররোচনার কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি তদন্তাধীন। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
