সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের চূড়ান্ত পদায়নের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৪ অক্টোবর পদায়ন হওয়ার কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১ অক্টোবর শিক্ষকদের চূড়ান্ত পদায়ন করা হবে।
এর আগে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে ১ অক্টোবর প্রার্থীরা নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান সম্পন্ন করেন। পদায়নের তারিখ পিছিয়ে গেলেও ৪ অক্টোবর থেকেই নতুন শিক্ষকদের পাঁচ দিনব্যাপী পরিচিতি বা ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম শুরু হবে। এ কর্মসূচি চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত।
দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিকী জানান, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১ অক্টোবর পদায়ন করা হবে। তবে ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে নতুন শিক্ষকদের জন্য মোট ২০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হবে।
ওরিয়েন্টেশনে সরকারি চাকরির প্রয়োজনীয় নিয়োগ বিধিমালা, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি শিশুদের সঙ্গে শিক্ষকদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনের কৌশল সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
এরপর নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট ও একাধিক ধাপে পুলিশ ভেরিফিকেশনের মতো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কার্যালয়গুলো নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে এবং তাঁদের ১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের সময় অনেক প্রার্থীর নাম বাদ পড়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর প্রতিবাদে নিয়োগবঞ্চিত অনেক প্রার্থী আন্দোলনে নামেন। পরে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের অধিকাংশই নিয়োগপত্র পেয়েছেন।
নতুন সূচি অনুযায়ী, এখন ৪ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ওরিয়েন্টেশন শেষে ১১ অক্টোবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত পদায়ন করা হবে।
