সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে পরিবর্তন না করে সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে দেশের সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এ কারণে সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক বয়কট করেছে দলটি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী মনছারের ঘাটে আয়োজিত কৃষক সমাবেশ ও গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। তাঁর দাবি, গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি কাঠামো থেকে উত্তরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার গণভোটের পুরো ফল না মেনে এর একটি অংশ গ্রহণ এবং অন্য অংশ না মানার অবস্থান নিয়েছে বলে এনসিপি মনে করে।
আখতার হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়ে গণভোটে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা উচিত। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সংসদের মাধ্যমে সংশোধন করা হলে বিদ্যমান সাংবিধানিক সংকট আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, সরকারকে শুরু থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে এনসিপি। ওই পরিষদের মাধ্যমে সংবিধানসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কথা বলেছে দলটি।
আখতার হোসেন জানান, সংসদের বিরোধী দল হিসেবে এবং দলীয়ভাবে এনসিপিকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে দলটি এতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এনসিপির সদস্যসচিবের ভাষ্য, সংবিধান সংশোধন কমিটি যে ভিত্তিতে গঠন করা হয়েছে, সেখানে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের বাস্তব প্রয়োগ নেই। এ কারণেই দলটি কমিটির বৈঠকে অংশ নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করলে সেখানে সংবিধানসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হবে এবং সেখান থেকেই এ-সংক্রান্ত বিরোধের সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।
রোববারের ওই কর্মসূচিতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ লিওনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
