জার্মানির রাজধানী বার্লিনের রাজ্য পার্লামেন্ট নির্বাচনে বামপন্থি দল ডি লিংক সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়ার পর দলটির নেতা ও প্রার্থী আলিফ আরালপ মেয়র হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন। তবে মেয়র ও রাজ্য সরকারের প্রধান হতে ডি লিংককে অন্য দলের সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে।
৪৫ বছর বয়সী আইনজীবী আলিফ আরালপ তুর্কি শরণার্থী পরিবারের সন্তান। ১৯৮১ সালে জার্মানির মিউনিখে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিক ডি লিংকের নেতা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির নির্বাচনী প্রচারণা তাঁকে প্রভাবিত করেছে।
ইনফ্রাটেস্ট ডিম্যাপের গবেষণা উদ্ধৃত করে ইউরোনিউজ জানিয়েছে, বার্লিনের নির্বাচনে ডি লিংক ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ক্ষমতাসীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) পেয়েছে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। আলটারনেটিফে ফ্যুর ডয়েচল্যান্ড (এএফডি) পেয়েছে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং গ্রিন পার্টি পেয়েছে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট।
ডি লিংক একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের জন্য অন্য একটি দলের সমর্থন প্রয়োজন। প্রতিবেদনে মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এসপিডি) ও পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টির সঙ্গে জোটের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আলিফ আরালপ তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন আবাসন নির্মাণ, বাড়িভাড়া সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং অভিবাসীদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডি লিংক বার্লিনের আবাসন সমস্যা মোকাবিলা এবং বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব কমানোর পরিকল্পনা করছে।
নির্বাচনের পর বিজয় ভাষণে আলিফ আরালপ বার্লিনকে পরিবর্তন করে সবার জন্য বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন। তিনি ভাষণের একটি অংশ তুর্কি ভাষাতেও দেন এবং তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে ইতিহাস তৈরির কথা বলেন।
ডি লিংক নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও দলটির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ফলে বার্লিনের সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জোটের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডি লিংক জোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দলকে সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলিফ আরালপের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও জার্মানিতে বিতর্ক রয়েছে। ফিলিস্তিন ও গাজা ইস্যুতে তাঁর দলের অবস্থানের কারণে কিছু ইহুদি সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জার্মানির ইহুদি সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় প্রধান জোসেফ শ্যুসটার ডি লিংকের বিজয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন এবং দলটির বিরুদ্ধে ইহুদি-বিদ্বেষের অভিযোগ তুলেছেন। ডি লিংক অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তাই আলিফ আরালপ শেষ পর্যন্ত বার্লিনের মেয়র হবেন কি না, তা জোট সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।
