দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় নিজের ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না এবং মরিয়ম নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আদালতে রিমান্ড শুনানি শেষে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে রোববার সন্ধ্যায় গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রাতে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
সোমবার দুপুরে গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শামসুজ্জোহা সরকার দুই আসামির সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডের আদেশের পর বিচারক এজলাস ত্যাগ করলে গাজী নজরুল কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা। ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না বলেও দাবি করেন। মরিয়ম নিজেই আত্মহত্যা করেছেন বলে তার বক্তব্য।
মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে গাজী নজরুল বলেন, এ বিষয়ে তিনি জানেন না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেন। এর মধ্যে ছিল মরিয়মের মৃত্যুর সময় একই বাসায় আসামিদের অবস্থান, তার আত্মহত্যায় কারও প্ররোচনা বা ভূমিকা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা এবং মামলার পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ।
এ ছাড়া অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি ঘটনায় জড়িত কি না এবং মামলার মূল ঘটনা উদঘাটনের জন্যও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেয়। শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির পৃথক মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার বাদী মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে পরিবারের কাছে মরিয়ম জানিয়েছিলেন—এমন অভিযোগ মামলায় করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মরিয়মকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনায় পরদিন আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়গুলো যাচাই হওয়ার কথা। গাজী নজরুল নিজেও অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
