গাইবান্ধার খালেদা আক্তার রুমা ১২ বছর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষকতা করেছেন। নিরাপদ খাদ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া ও গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে দুই মাস আগে শিক্ষকতা ছেড়ে শুরু করেন কৃষিজাত পণ্য নিয়ে ব্যবসায়িক উদ্যোগ। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে ১৫ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার পৌরসভার ৩ নম্বর দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় রুমা গড়ে তুলেছেন ‘মেসার্স আঞ্চলিক সম্ভার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে ঢেঁকি ছাঁটা চাল, লাল আটা, হাতে ভাজা মুড়ি, বিভিন্ন ধরনের মসলা, মধু, চিয়া সিডসহ নানা কৃষিজাত দেশীয় পণ্য প্রস্তুত ও বিক্রি করা হচ্ছে। এসব পণ্য অনলাইন ও সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন তিনি।
রুমার বাড়িতে সকাল থেকেই শুরু হয় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতের কাজ। গ্রামের নারীদের ধান ভাঙানোর ইলেকট্রিক মেশিন চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পণ্য উৎপাদনের কাজও চলছে। এসব পণ্যের প্রচার ও ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে কয়েকজন যুবক যুক্ত রয়েছেন। উদ্যোগটিতে সহযোগিতা করছেন রুমার বাবা অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা খায়রুল আলম।
রুমার ভাষ্য, নিরাপদ খাদ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে তিনি ঢেঁকি ছাঁটা চালের ধান সংগ্রহ করে অনলাইন ও অফলাইনে বিক্রি করছেন। পাশাপাশি চালের মুড়ি, আটা, বিভিন্ন মসলা, মধু, চিয়া সিড, বিভিন্ন ধরনের গুঁড়া ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যও বিক্রি করছেন।
তিনি জানান, উদ্যোগটি থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন। সরকারি সহযোগিতা পেলে এটি আরও বড় পরিসরে পরিচালনার আশা রয়েছে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে গ্রামের নারীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
রুমার উদ্যোগে কাজ করছেন স্থানীয় নারী-পুরুষরা। কর্মী হাসিনা বেগম বলেন, রুমার উদ্যোগের কারণে তাঁরা কাজের সুযোগ পেয়েছেন। আগে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচের জন্য স্বামীর ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন নিজের আয় দিয়ে সংসারে অবদান রাখতে পারছেন।
প্রতিষ্ঠানের অনলাইন কর্মী আবির হোসেন জানান, রুমার উদ্যোগে পাঁচজন যুবক কাজ করছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগে যুবকদের কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
রুমার বাবা অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা খায়রুল আলম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেয়ে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সচেতন। মেয়ের উদ্যোগে তিনি খুশি। তাঁর চাকরিজীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়েই রুমা এই উদ্যোগ শুরু করেছেন।
এদিকে গাইবান্ধা জেলার বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌস রুমাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, রুমার মতো উদ্যোক্তাদের পাশে তাঁরা সবসময় আছেন। সরকারি সহযোগিতা চাইলে তাঁকে সহযোগিতা করা হবে।
বর্তমানে রুমার প্রতিষ্ঠানে ১৫ জন নারী-পুরুষ কাজ করছেন। সরকারি সহযোগিতা পেলে উদ্যোগটি আরও বড় পরিসরে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
