সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়া একটি তেলবাহী ট্যাংকারের পাঁচ নাবিককে হত্যা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরুর আগেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি অনার ২৫’ ট্যাংকারে হতাহতের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার ব্যারেল তেল নিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারটি গত ২১ এপ্রিল সোমালিয়ার উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় জলদস্যুদের কবলে পড়ে।
সোমালিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুন্টল্যান্ডের তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশেষ উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে জাহাজটি মুক্ত করা হয়েছে। এ সময় ১৬ জন সন্দেহভাজন জলদস্যুকে আটক করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, উদ্ধার অভিযান শুরুর আগেই জাহাজে থাকা জলদস্যুরা পাঁচ ক্রুকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানের, একজন মিয়ানমারের এবং একজন ভারতের নাগরিক। আরও চারজন ক্রু আহত হয়েছেন; তাদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানের ও একজন ভারতের।
পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, জাহাজটি বর্তমানে নিরাপদে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সোমালি জলদস্যুদের হাতে এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাবে সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুতার নতুন করে বিস্তার ঘটেছে বলে বিশেষজ্ঞদের মতামতও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে আরেকটি অভিযানে আগস্টে সোমালি জলদস্যুদের হাতে ছিনতাই হওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ‘সিবু১’ নামের একটি ট্যাংকার উদ্ধার করে মেরিটাইম পুলিশ। তবে ওই অভিযানে আটক ৪১ জলদস্যুর মধ্যে ২৮ জন পরে কারাগারে স্থানান্তরের সময় পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন পুন্টল্যান্ডের কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল থেকে সোমালিয়ার উপকূলীয় জলসীমায় অন্তত ১৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সোমালি জলদস্যুদের ব্যাপক তৎপরতায় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল। সে সময় জলদস্যুতার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বিপুল পরিমাণ মুক্তিপণ দিতে হয়েছিল।
