দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অনিয়মের অভিযোগে জড়িত বিএনপির নেতাকর্মীদের তালিকা প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে যুগান্তর জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পদ-পদবি বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
এরই মধ্যে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও দলীয় নেতার কর্মকাণ্ডও নজরদারিতে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিতর্কিত নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দখল, চাঁদাবাজি কিংবা দলের নাম ব্যবহার করে অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে—এমন নেতাকর্মীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকেও বিভিন্ন অভিযোগ ও কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, দলের কেউ বিশৃঙ্খলা করলে ছাড় দেওয়া হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে এবং অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।
প্রতিবেদনে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও এসেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে মহানগর নেতাদের বৈঠকে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় সরকারি দলের কয়েকজন এমপি ও প্রভাবশালী নেতার ইন্ধনের অভিযোগও তার কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতা সাংগঠনিক ব্যবস্থার ঝুঁকিতে রয়েছেন। কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকেও সতর্ক করা হয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় দখলদারি, প্রভাব বিস্তার ও দলীয় কোন্দলের অভিযোগের বিষয়ে কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীর কাছে কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপির দলীয় সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, সরকার গঠনের পর থেকে মূল দল ও অঙ্গসংগঠনের সহস্রাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার, পদ স্থগিত, অব্যাহতি ও কারণ দর্শানোর মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় দলীয় সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগের কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জুলাইয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
দলের কয়েকজন নেতা মনে করছেন, শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোয় নতুন নেতৃত্ব আনার প্রক্রিয়াও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দলীয় পরিচয় বা প্রভাবের ভিত্তিতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়ালে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
