যশোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে শুক্রবার (২ অক্টোবর) শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেখা গেল যমজ বোন সাবিহা রহমান ও সামিহা রহমানকে। দেখতে প্রায় একই রকম দুই বোনের পোশাক, সাজ ও হাতব্যাগের রংও ছিল একই।
সকালে বাবা সাইদুর রহমান তাদের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে দেন। সেখানে তারা অন্য বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠে, কেউ কেউ সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় দুই বোনের মধ্যে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস।
সামিহা রহমান জানায়, প্রতিবছর শিখো–প্রথম আলো কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়—এটি তারা জানত। বড় বোনদের সংবর্ধনা পেতে দেখে তারাও এমন অনুষ্ঠানে আসার স্বপ্ন দেখত। এবার দুই বোন একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে দুজনই জিপিএ–৫ পেয়েছে।
সাবিহা রহমান জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ে তারা যশোর শহরের সেক্রেড হার্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়েছে। পরে দুজনই যশোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হয় এবং সেখান থেকে একসঙ্গে এসএসসি পাস করে।
তবে কলেজে তাদের পথ আলাদা হয়েছে। ফলের ভিত্তিতে একজন যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজে এবং অন্যজন যশোর সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হয়েছে।
সাবিহা জানায়, ছোটবেলা থেকেই তাদের অনেক কিছুই একসঙ্গে। তারা একই ধরনের পোশাক পরে, একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া ও ঘুমায়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কী পোশাক পরবে, সেটিও তারা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল। তাই অনুষ্ঠানে একই ধরনের পোশাক পরে এসেছে দুই বোন।
অনুষ্ঠানে এক বান্ধবী দুই বোনের খুনসুটি নিয়ে মজা করলে তারা লজ্জা পেয়ে যায় এবং বিষয়টি না লেখার অনুরোধ করে।
বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার সময় স্কুলজীবনের বিভিন্ন স্মৃতিও উঠে আসে। টিফিনের সময় বসা, খেলা ও আড্ডার জায়গা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চার বান্ধবী জানায়, তাদের সেই পুরোনো জায়গাটি এখন আর খুঁজে পাচ্ছে না।
পরে চারজন একসঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে প্রিয় শিক্ষক আহসান হাবীব পারভেজের সঙ্গে দেখা করে। সেখানে তারা পুরোনো দিনের স্মৃতি নিয়ে কথা বলে।
প্রথম আলোর আয়োজনে এবং শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় সারা দেশের ৬৪ জেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এবারের আয়োজনের স্লোগান ‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’।
সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে যশোরের মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বন্ধুসভার পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইকলিমা ইয়াসমিন ইমা।
শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে যশোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবীব পারভেজ নিজের স্কুলের এক সাবেক ছাত্রীর ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাধ্যমিক পরীক্ষায় অল্পের জন্য জিপিএ–৫ না পাওয়া এক ছাত্রী ফল প্রকাশের দিন কেঁদেছিল। দুই বছর পর সেই ছাত্রী স্কুলে এসে জানায়, সে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।
এই ঘটনা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আহসান হাবীব পারভেজ বলেন, এসএসসিতে জিপিএ–৫ পাওয়াই শেষ কথা নয়; সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।
যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আহমদ ফেরদৌস জাহাঙ্গীরও শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার গুরুত্বের কথা বলেন। তিনি বলেন, ভালো ফল করলে দায়িত্ববোধও বাড়ে এবং আরও ভালো করার লক্ষ্য রাখতে হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মিথ্যা, মুখস্থ ও মাদককে ‘না’ বলার শপথ করান প্রথম আলোর ডেপুটি নিউজ এডিটর তুহিন সাইফুল্লাহ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝংকার মজুমদার অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেয়। নৃত্য পরিবেশন করে জারিন তাসনিয়া রূপকথা ও নিশাত তাসনিম দিশা। অনলাইন কুইজের ১০ বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
পরে শিক্ষার্থীদের গান ও আবৃত্তি পরিবেশনের পাশাপাশি চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠের খন্দকার ইমরানের গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
