সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত; বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১
টানা বর্ষণ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী ঢাকায় গত ১৭ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী আরও পাঁচ দিন মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ।
সোমবার প্রকাশিত আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ঢাকায় সর্বশেষ ২০০৯ সালে ২৪ ঘণ্টায় ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল, যা এখনো সর্বোচ্চ। তবে চলতি বছরের এই বর্ষণ রাজধানীর সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক পরিমাপে চট্টগ্রামে ১৬০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১১৩ মিলিমিটার, ফরিদপুরে ১১১ মিলিমিটার এবং দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে আগামী কয়েক দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও অতিভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার দেশের অধিকাংশ বিভাগে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবারও উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ১৫ ও ১৬ জুলাই খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক এলাকায় ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
টানা বৃষ্টির প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ভারী বর্ষণের কারণে সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং অফিসগামী মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জলাধার সংকোচনের কারণে ভারী বৃষ্টিতে নগরজীবনে দুর্ভোগ আরও তীব্র হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চল থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদেরও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে রাজধানীতে ১৭ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়া এবং বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্কতা ও প্রস্তুতি এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
