সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে একটি বাঘকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। শুক্রবার দুপুরে ধারণ করা সেই দৃশ্য বনকর্মীদের মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তবে এটি সম্প্রতি অবমুক্ত করা বাঘিনী কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি বন বিভাগ।
সুন্দরবনের ভেতরে অবস্থিত বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র এলাকায় শুক্রবার দুপুরে একটি বাঘ বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে এসে কিছু সময় অবস্থান করে। পরে সেটি ধীরগতিতে পাশের জঙ্গলে চলে যায়। ঘটনাটি বনকর্মীদের ধারণ করা ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, শ্যালা নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম তীরসংলগ্ন আন্ধারমানিক কেন্দ্রের পাশ দিয়ে বাঘটি হেঁটে এসে বন অফিসের সামনে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর একবার পেছনে তাকিয়ে উত্তর পাশের বনাঞ্চলের দিকে চলে যায়।
২০২১ সালে সুন্দরবনে নতুন চারটি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র নির্মাণের অংশ হিসেবে আন্ধারমানিক এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার, ফুট ট্রেইলসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলে বন বিভাগ। গত ১৩ জুলাই এই কেন্দ্রের দক্ষিণাঞ্চলের বনে একটি উদ্ধার করা বাঘিনীকে অবমুক্ত করা হয়েছিল। এর আগে ৪ জানুয়ারি বৈদ্যমারী ফরেস্ট ক্যাম্পের অধীন শরকির খালসংলগ্ন এলাকা থেকে ফাঁদে আটকে আহত অবস্থায় বাঘিনীটিকে উদ্ধার করা হয়।
তবে শুক্রবার দেখা যাওয়া বাঘটি সেই অবমুক্ত করা বাঘিনী কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস বলেন, “এই বাঘটি আমাদের ছাড়া বাঘিনী না বলেই মনে হচ্ছে। গায়ের ডোরাকাটা দাগ বিশ্লেষণে মনে হচ্ছে, এটি অন্য আরেকটি বাঘিনী। এ ছাড়া বনের যে অংশে বাঘিনীটি ছাড়া হয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত খাবার আছে। আশা করা যায়, বাঘিনীটির খাবারের জন্য শিকার বা টিকে থাকায় সমস্যা হচ্ছে না।”
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি সুন্দরবনের আশপাশে প্রায় আট কিলোমিটার এলাকায় ২০টি ক্যামেরা ট্র্যাপ বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরায় বাঘ ছাড়াও চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, বনমোরগ, বন্য শূকর, মেছো বাঘ ও উদ্বিড়ালসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর উপস্থিতি ধরা পড়েছে।
এ ছাড়া নিয়মিত টহলের সময় আগের তুলনায় বাঘের পায়ের ছাপও বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “সুন্দরবনের আট কিলোমিটারজুড়ে সম্প্রতি স্থাপন করা ক্যামেরাগুলোতে এরই মধ্যে নতুন করে আরও তিনটি বাঘের ছবি শনাক্ত করা গেছে। একটি ক্যামেরা ফাঁদে আটকা পড়া বাঘিনীটি উদ্ধার করার স্থান শরকির খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে স্থাপন করা হয়। সেই ক্যামেরাতেও সম্প্রতি একটি বাঘের ছবি আমরা শনাক্ত করেছি। ওই এলাকাটি লোকালয় থেকে একদমই কাছে।”
বন বিভাগের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যামেরা ট্র্যাপ এবং মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে সুন্দরবনে বাঘের বিচরণ আগের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে, যা বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।
