মাত্র ৮৫ রানের লক্ষ্য রক্ষা করে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল জয়ের বিরল কীর্তি গড়ে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। গ্লোবাল সুপার লিগ ২০২৬-এর ফাইনালে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসকে ৬ রানে হারিয়ে টানা শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ফাইনালে সর্বনিম্ন স্কোর ডিফেন্ড করার নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে ইমরান তাহিরের দল।
শনিবার গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিকরা। তবে শুরু থেকেই সান ফ্রান্সিসকোর বোলারদের দাপটে চাপে পড়ে গায়ানা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফিরে যান দুই ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও জনসন চার্লস। পাওয়ারপ্লের মধ্যে ২৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ৮.৫ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে মাত্র ২৯ রান।
সেখান থেকে নবম উইকেটে ম্যাথিউ ফোর্ড ও ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের ৪১ রানের জুটি দলকে বড় বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করে। ফোর্ড ২৩ বলে সর্বোচ্চ ২৮ রান এবং প্রিটোরিয়াস ৩০ বলে ১৭ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ১৮.৫ ওভারে ৮৫ রানেই অলআউট হয় গায়ানা।
৮৬ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুতে ধাক্কা খায় সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নস। মাত্র ৬ রানে দুই ওপেনারকে হারালেও অলিভার পিক, অধিনায়ক হাসান খান ও সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তির ব্যাটে ম্যাচে ফেরে তারা। ১০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৫০ রান তুলে জয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল দলটি।
কিন্তু এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন গায়ানার বোলাররা। ৫৩ রান থেকে মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে আরও পাঁচ উইকেট হারিয়ে ৫৮ রানে ৮ উইকেটে পরিণত হয় সান ফ্রান্সিসকো।
নবম উইকেটে ফেবিয়ান অ্যালেন ও পিটার সিডল ১৪ রান যোগ করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রিটোরিয়াস সেই জুটি ভেঙে দেন। শেষদিকে সিডলের একটি ছক্কায় উত্তেজনা বাড়লেও ১৯তম ওভারে শিমরন হেটমায়ারের সরাসরি থ্রোতে ক্যালাম স্টো রানআউট হলে ৭৯ রানেই থেমে যায় সান ফ্রান্সিসকোর ইনিংস। ফলে ৬ রানের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে গায়ানা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি ফাইনালে সর্বনিম্ন স্কোর রক্ষার আগের রেকর্ড ভেঙে দেয় গায়ানা। এর আগে ২০২০ সালের বিগ ব্যাশ লিগের ফাইনালে সিডনি সিক্সার্স মেলবোর্ন স্টার্সের বিপক্ষে ১১৬ রান রক্ষা করে এই রেকর্ড গড়েছিল।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক ইমরান তাহির বলেন, “সত্যি বলতে, শুরুটা আমাদের একদমই বাজে হয়েছিল। আমরা খুব ভালো করেই জানতাম ৮৫ রান ডিফেন্ড করা প্রায় অসম্ভব এক কাজ। আমি ছেলেদের ড্রেসিংরুমে শুধু একটাই কথা বলেছিলাম—নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। অন্য যেকোনো দিন এই রান প্রতিপক্ষ অনায়াসেই তুলে নিত। কিন্তু এই রান বাঁচানোর জন্য রক্তের ভেতরের আত্মবিশ্বাসটা দরকার ছিল। আমার দল একদম নিজেদের নাম অনুযায়ী সত্যিকারের যোদ্ধার মতোই লড়াই করেছে, ওদের জন্য আমি দারুণ গর্বিত।”
