টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ১৩ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। নতুন নির্দেশনায় হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, সংরক্ষিত এলাকায় চলাচল নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা নিষিদ্ধসহ পরিবেশ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত একাধিক বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং হাওর সুরক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীক্ষণ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।
রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান জানান, হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “পুরো হাওর নয়, হাওরের যে অংশ প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ); কেবল সেসব স্থানে কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌযান প্রবেশ ও চলাচল করতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, ইসিএর বাইরে হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযান চলাচলে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। পর্যটকবাহী নৌযান মাটিয়ান হাওর, বৌলাই নদী হয়ে টেকেরঘাট পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গত বছরের ২১ জুন পর্যটকদের জন্য ১২ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর সরকার ‘টাঙ্গুয়ার হাওর ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’ জারি করে। নতুন ১৩ দফা নির্দেশনা ওই আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কার্যকর করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব হাউসবোটের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং অনুমতি ছাড়া কোনো হাউসবোট বা পর্যটকবাহী নৌযান পরিচালনা করা যাবে না। হাউসবোটে উচ্চ স্বরে গান-বাজনা, মাইক ব্যবহার এবং পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) প্লাস্টিক বহনেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিটি নৌযানে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার রাখতে হবে। হাউসবোটে সেপটিক ট্যাংক ও কমপক্ষে দুটি ডাস্টবিন রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাওর বা জলাশয়ে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা যাবে না এবং প্রতিটি ভ্রমণে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি নৌযানের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং যাত্রা শুরুর আগে তা অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং হাসপাতালের জরুরি যোগাযোগ নম্বর দৃশ্যমান স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ঝড়, প্রবল বৃষ্টি কিংবা বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে। পাশাপাশি আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাউসবোট নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে অথবা অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযান পরিচালনা করা যাবে না।
