বাংলাদেশি কর্মীদের আকামা (ইকামা) নবায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সৌদি আরব। এখন থেকে কোনো নিয়োগকর্তা (কফিল) আকামা নবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মী আইনগত জটিলতা ছাড়াই অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে আকামা নবায়নের সুযোগ পাবেন। ঢাকায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। একই বৈঠকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং দ্বিপক্ষীয় শ্রমবাজার সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
রাজধানীতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকৌশলী ওয়ালিদ আব্দুল করিম আল-খুরেইজি। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের আকামা নবায়নসংক্রান্ত নতুন সুবিধার বিষয়টি তুলে ধরেন।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান তিনটি কর্মী নিয়োগ চুক্তির মধ্যে ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এবং এসভিপি-সংক্রান্ত দুটি চুক্তি নবায়নের অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ অনুমোদিত নতুন কর্মী নিয়োগ চুক্তিটি দ্রুত সৌদি সরকারের অনুমোদনের আহ্বান জানানো হয়।
দুই দেশের মধ্যে কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং কর্মীদের কল্যাণসংক্রান্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে যৌথ টেকনিক্যাল কমিশনের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ।
এ ছাড়া বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে একটি ‘সৌদি–বাংলাদেশ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, আরবি ভাষা শিক্ষা, সৌদি আরবের আইন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা প্রদান এবং বিদেশযাত্রার আগে প্রয়োজনীয় ওরিয়েন্টেশন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও হসপিটালিটি খাতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ সহজ করতে কারিগরি, ভোকেশনাল ও পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির একটি কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের ওয়ার্ক পারমিট ও আকামা সময়মতো ইস্যু এবং নবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ওয়ার্ক পারমিট ফি দেখিয়ে কিছু নিয়োগকর্তার বিলম্বের অভিযোগ দূর করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীরা সৌদি আরবের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “কওমি মাদ্রাসার অনেক শিক্ষার্থী আরবি ভাষায় দক্ষ। প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের জন্য সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।”
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সৌদি আরবে বাড়তে থাকা শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ রমজান ও ঈদ উপলক্ষে সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোর জবাবে সৌদি আরবের মানবসম্পদবিষয়ক উপমন্ত্রী মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা জানান, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি ও হসপিটালিটি খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী নিয়োগে সৌদি আরব আগ্রহী। তিনি বলেন, কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় দেশটিতে ইতোমধ্যে ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম এবং বীমা ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
এ ছাড়া সৌদি আরবের কারাগারে আটক বাংলাদেশি কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য কূটনৈতিক মাধ্যমে পাঠানো হলে সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
