কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর তার মা-বাবা মোবাইল ফোনে হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের আশঙ্কা, ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িতরা ভবিষ্যতে তাকে ও তার স্বামী ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের লালমাই পাহাড়ের সানন্দ্যা এলাকায় অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ারকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একটি গ্রামীণফোন নম্বর থেকে হুমকি পাওয়ার পর সেটি বন্ধ করা হয়। পরে এয়ারটেলের আরেকটি নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন আসে। পরবর্তীতে ওই দুই নম্বরে কল করলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, মাঝেমধ্যে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। একদিন ফোন করে গালিগালাজও করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন এবং ডিবিকে জানাবেন বলে তিনি জানান।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ খুঁজে দেখতে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। এর মধ্যে তার মা ড. নাহিদা বেগমের মাদকবিরোধী অবস্থানের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
নাহিদা বেগম বলেন, স্থানীয় কোটবাড়ী-সালমানপুরের মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। এ কারণে তার পরিবারকে লক্ষ্য করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা বয়সের কারণে আইনের কোনো সুযোগ নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে এসে আবারও অপরাধে জড়াতে পারে।
অপ্রতিমকে নিয়ে তার মা জানান, সন্তানকে চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তিনি। প্রচলিত অর্থে চিকিৎসক বা প্রকৌশলী বানানোর পরিকল্পনা ছিল না।
ছেলেকে ফটোগ্রাফি, সাইক্লিং, সাঁতার ও কারাতের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এক বছর নাচও শিখেছিল অপ্রতিম। তার ব্যবহৃত হারমোনিয়াম এখনো পরিবারের কাছে রয়েছে বলে জানান মা।
অভিভাবকদের উদ্দেশে নাহিদা বেগম বলেন, সন্তানকে স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সে কার সঙ্গে চলাফেরা করছে এবং কোথায় যাচ্ছে, সেসব বিষয়েও বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
অপ্রতিম হত্যা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করছিলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। শুক্রবার তিনি জানান, মামলার তদন্তের দায়িত্ব এখন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদের কাছে দেওয়া হয়েছে।
নতুন তদন্ত কর্মকর্তা জানান, পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ হয়েছে। মামলার নথি পাওয়ার পর তিনি তদন্তের কাজ শুরু করবেন। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিটি আশঙ্কা তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অগ্রগতিও হয়েছে বলে তিনি জানান।
