ইরানবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রতিবেদনটির ফলাফলকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না ওয়াশিংটন।
জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন গত বৃহস্পতিবার জানায়, ইরানে চলা যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছে—এমনটা বিশ্বাস করার মতো প্রমাণ তারা পেয়েছে।
তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদনে ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।
ইরানের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১২০ জন ছিলেন স্কুলশিক্ষার্থী।
প্রতিবেদনে আরও একটি বিমান হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সহজে শনাক্ত করা যায়—এমন একটি ক্রীড়া স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ওই হামলায় ২২ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন এর ফলাফলকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য ও ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ায় এবং দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে প্রশ্রয় দেয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে প্রত্যাহার করে নেন। তখন ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কাউন্সিলসহ জাতিসংঘের কিছু সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থীভাবে কাজ করার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসও প্রতিবেদনটির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে বলে বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, সংঘাতে একমাত্র ইরানের শাসকগোষ্ঠীই যুদ্ধাপরাধ করেছে।
জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদনটি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
