উয়েফা নেশনস লিগে আগামীকাল ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়ারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল। ম্যাচের এক দিনেরও কম সময় আগে শনিবার হাঙ্গেরিতে দলের খেলোয়াড়দের ভোটাভুটিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডেব্রেসেনে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আয়ারল্যান্ডে বিতর্ক চলছিল। দেশটির বিভিন্ন মহলে ম্যাচটি বর্জনের দাবিও উঠেছিল। এর মধ্যেই শনিবার সকালে দীর্ঘ আলোচনার পর দলের খেলোয়াড়েরা ভোটে অংশ নেন।
আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএআই) এক মুখপাত্র জানান, ভোটে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খেলোয়াড় ম্যাচটি খেলার পক্ষে মত দিয়েছেন।
পরে এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কাউরেল কোচ হেইমির হলগ্রিমসন ও ফুটবল ডিরেক্টরের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ম্যাচটি খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খেলোয়াড়েরা।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অন্তত সাতজন ফুটবলার ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড় ম্যাচ খেলার পক্ষে মত দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে খেলোয়াড়েরা সম্মত হয়েছিলেন, ভোটের ফল যাই হোক না কেন, সবাই সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন এবং দলের ঐক্য বজায় রাখবেন।
আয়ারল্যান্ডের মূল গোলকিপার গ্যাভিন বাজুনু ব্যক্তিগতভাবে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচটি নিয়ে আপত্তি ও দ্বিধা প্রকাশ করেছিলেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
আয়ারল্যান্ডে ম্যাচটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের ক্রীড়া বিষয়ক মুখপাত্র ও ডেইল এরানের সদস্য ড্যানিয়েল এনিস দলের সিদ্ধান্তকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের এমন একটি কঠিন ও বিতর্কিত পরিস্থিতির মধ্যে পড়া উচিত হয়নি। গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি আয়ারল্যান্ডের জাতীয় দলের ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
তবে এনিসের বক্তব্য অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তের জন্য খেলোয়াড়দের দায়ী করা উচিত নয়; বরং তিনি আইরিশ সরকার, এফএআই ও উয়েফার ভূমিকার সমালোচনা করেন।
