কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেপ্তার থাকা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন শুনানি করেন। তিনি মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র উপস্থাপন করে তা গ্রহণের আবেদন জানান। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি আমলে নেন এবং গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, মেজর রুহুল আমিন, সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি এবং সেনা কর্মকর্তা আশিকুর রহমান।
এদের মধ্যে আবদুর রহমান বদি, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম অন্য মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।
এর আগে একই দিন সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হক। ওই ঘটনার পর তার মেয়ের কণ্ঠে ধারণ করা ‘আব্বু তুমি কান্না করতেছ যে…’ শিরোনামের অডিও রেকর্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
