প্রজননক্ষম নারীদের মধ্যে এন্ডোমেট্রিওসিস একটি দীর্ঘমেয়াদি ও যন্ত্রণাদায়ক রোগ। মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা, দীর্ঘদিনের তলপেটের ব্যথা, সহবাসে অস্বস্তি এমনকি বন্ধ্যত্বের মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে এ রোগের কারণে। তাই এসব উপসর্গকে স্বাভাবিক মনে করে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জরায়ুর ভেতরের আস্তরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে, যেমন ডিম্বাশয় বা তলপেটে বেড়ে উঠলে এন্ডোমেট্রিওসিস হতে পারে। এর কারণে নারীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মাসিকের সময় অতিরিক্ত ব্যথা ও দীর্ঘস্থায়ী তলপেটের ব্যথাকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসার আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।
এন্ডোমেট্রিওসিসের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে হরমোনভিত্তিক জন্মনিরোধক পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পদ্ধতি গর্ভধারণ প্রতিরোধের পাশাপাশি মাসিকের পরিমাণ ও হরমোনের প্রভাব কমিয়ে এন্ডোমেট্রিওসিসজনিত ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা নির্দেশিকাতেও এন্ডোমেট্রিওসিসের ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে হরমোনভিত্তিক জন্মনিরোধক পদ্ধতির ব্যবহারকে চিকিৎসার একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসায় হরমোনভিত্তিক প্রজেস্টিন ইনজেকশন গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি। এর মধ্যে সেলফ-ইনজেকটেবল বা নিজে প্রয়োগ করা যায় এমন জন্মনিরোধক ইনজেকশনও রয়েছে।
যাঁদের প্রতিদিন বড়ি খাওয়া কঠিন বা নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার বিষয়টি মনে রাখা সমস্যার, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর নেওয়া এই ইনজেকশন একটি সুবিধাজনক বিকল্প হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি প্রায় ১৪ সপ্তাহ পরপর নেওয়া যায় এবং প্রোজেস্টিনভিত্তিক এই ইনজেকশন ডিম্বাশয়ের হরমোনের প্রভাব কমাতে সহায়তা করে।
উৎসে বর্তমানে দুই ধরনের ডিএমপিএ ইনজেকশনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একটি হলো ভায়ালে দেওয়া মাংসপেশিতে প্রয়োগযোগ্য ডিএমপিএ, যার মাত্রা ১৫০ মি.গ্রা./মি.লি। অন্যটি ইউনিজেক্ট ডিভাইসে থাকা ত্বকের নিচে প্রয়োগযোগ্য ডিএমপিএ, যার মাত্রা ১০৪ মি.গ্রা./০.৬৫ মি.লি।
ডেপো মেড্রক্সিপ্রোজেস্টেরন অ্যাসিটেট বা ডিএমপিএ ইন্ট্রামাসকুলার ইনজেকশন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অন্যদিকে ত্বকের নিচে প্রয়োগযোগ্য ডিএমপিএ ধীরে ধীরে শরীরে শোষিত হয় এবং প্রতিবেদনে এটিকে প্রায় ১৪ সপ্তাহ পর্যন্ত কার্যকর সুরক্ষা দেওয়ার পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরমোনভিত্তিক জন্মনিরোধক পদ্ধতি এন্ডোমেট্রিওসিস পুরোপুরি দূর করতে না পারলেও হরমোন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রোগীদের ব্যথা কমিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সমাজে মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা বা দীর্ঘদিনের তলপেটের ব্যথাকে অনেক সময় স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়। ফলে অনেক নারী নীরবে কষ্ট সহ্য করেন। এ ধরনের ব্যথাকে স্বাভাবিক ধরে না নিয়ে সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
লেখক: ডা. জাকান্তা ফাইকা, গাইনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা।
