ভারতের গুয়াহাটিতে একটি হোমস্টের কক্ষ থেকে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নিমিশা ঠাকুরিয়া গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় তার ২৬ বছর বয়সী প্রেমিক আসিফ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পুলিশের কাছে আসিফ দাবি করেছেন, নিমিশা আত্মহত্যা করেছেন। তবে তার এই বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশ। ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখনো ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ বা হোমস্টের কক্ষের মেঝেতে কোনো রক্তের দাগ পাওয়া যায়নি।
তদন্তে পরিবারের সদস্য ও এক পারিবারিক বন্ধুর বক্তব্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। তাদের দাবি, নিমিশা জানিয়েছিলেন যে তিনি এক বন্ধুর বাড়িতে রাত কাটাবেন।
তবে গভীর রাতে তিনি মাকে ফোন করে আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, মা।’ এরপর তার ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
হোমস্টের কেয়ারটেকার ও রাঁধুনি বিপুল বাইলুং পুলিশকে জানিয়েছেন, রাতে তিনি এক ব্যক্তির চিৎকার শুনেছিলেন। ওই ব্যক্তি কাউকে উদ্দেশ করে ‘দাদা, ওঠো, ওঠো’ বলে চিৎকার করছিলেন।
পরে বাইরে এসে তিনি একটি কক্ষের সামনে কান্নার শব্দ শুনতে পান। সেখানে গিয়ে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় এক যুবক ওই তরুণীকে ধরে ছিলেন বলে পুলিশকে জানান তিনি।
পরে হোমস্টের মালিককে খবর দেওয়া হলে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়।
নিমিশা হিন্দু এবং গ্রেপ্তার আসিফ মুসলিম হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি সংগঠন ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরোধ তুলে দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হোমস্টের মালিক, কেয়ারটেকারসহ অন্যান্য কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
