কুয়েতে ভিজিট ভিসা এবং দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর বিশেষ সুবিধা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ওই দিন থেকে ভিসা ও ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনগত মেয়াদ এবং প্রচলিত নিয়ম কার্যকর হবে।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বরের পর দেশটিতে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেণির ভিজিট ভিসার মেয়াদ আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো হবে না। একই সঙ্গে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রে বিশেষভাবে দেওয়া অতিরিক্ত সময়ের সুবিধাও শেষ হবে।
২০২৬ সালের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কুয়েতসহ আশপাশের অঞ্চলে বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এতে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে কুয়েত ছাড়তে পারেননি। পাশাপাশি কুয়েতের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসীও নির্ধারিত সময়ে দেশটিতে ফিরতে পারেননি।
এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করা এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিসা বা আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে কুয়েত সরকার সাময়িকভাবে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা চালু করে। এর আওতায় নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়া ভিজিট ভিসাধারীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা কিছু প্রবাসীর ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদও বাড়ানো হয়।
তবে এটি স্থায়ী কোনো নতুন ভিসা আইন ছিল না। বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেওয়া অস্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে এটি চালু করা হয়েছিল। এই সুবিধার ফলে হাজার হাজার প্রবাসী ও ভিজিট ভিসাধারী উপকৃত হয়েছেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ অবস্থানে পড়ার আশঙ্কা কমার পাশাপাশি বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে কুয়েতে ফিরতে না পারা ব্যক্তিরা অতিরিক্ত সময় পেয়েছেন।
এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ভিসা বা ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আলাদাভাবে আবেদন করার প্রয়োজন হয়নি। ফলে বিশেষ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া প্রবাসী ও যাত্রীদের প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপও কমেছে।
তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে আগের এই সুবিধা আর থাকবে না। ভিজিট ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না। ভিসাধারীদের নিজ নিজ ভিসার প্রকৃত মেয়াদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের নির্ধারিত মেয়াদই কার্যকর হবে।
বিশেষ করে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের নিজেদের ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধতা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া আবাসন অনুমতিপত্রের অবস্থাসংক্রান্ত সনদ ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ যাচাইয়ের সরকারি রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হবে।
তাই পুরোনো কাগজপত্র, আগের বার্তা কিংবা নিয়োগকর্তার মৌখিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে বর্তমান বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধতা শেষ হওয়ার পরও কোনো প্রবাসী কুয়েতে ফিরে না এলে তার আবাসন-সংক্রান্ত অবস্থায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। একইভাবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভিজিট ভিসা নিয়ে কুয়েতে অবস্থান করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রচলিত আবাসন আইনের আওতায় জরিমানা বা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার হার কার্যকর হচ্ছে—এমন কোনো ঘোষণা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্দিষ্ট কোনো জরিমানার অঙ্ককে সরকারি ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুয়েতের প্রচলিত আবাসন আইনে অনুমোদিত সময়ের অতিরিক্ত অবস্থানের জন্য জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে ভিসা বা আবাসনের ধরন এবং লঙ্ঘনের প্রকৃতি অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। তাই ভিজিট ভিসা, আবাসন অনুমতিপত্র ও ছুটির অনুমতিপত্রের বিষয়গুলো একই নিয়মে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে কী ধরনের জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট ভিসা বা আবাসনের ধরন এবং কী ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে তার ওপর নির্ভর করবে।
