সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, মহানগর উত্তর যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১৪ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিগুলোতে রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনার কোনো উল্লেখ করা হয়নি। বহিষ্কারের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মো. আমিনুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও মো. মোস্তফা জামানকে সদস্যসচিব করে গঠিত ৫১ সদস্যের ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্তির নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তবে দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির তিন নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুক্কু। তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণ ও দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মেয়াদ শেষ হওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
একই কারণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। দ্রুত নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন সহসভাপতি সারোয়ার আলম পিয়াস, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, দারুসসালাম থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন দিপু, সদস্যসচিব ওমর নাঈম এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্যসচিব শান্ত রহমান।
দলীয় আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আক্তার হোসেন মামুন ও সদস্যসচিব মো. হাফিজুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক বা যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শ্রমিক দলের আরও চার নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন, শাহ আলী থানা অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সদস্য হুজাইফা এবং দারুসসালাম থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক গোলাম রসুল পারভেজ।
এর আগে মঙ্গলবার অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর উত্তরের পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে মামুন মিরপুর অঞ্চলে একটি অপরাধ চক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশে অবস্থানরত তার দুই ভাইয়ের মাধ্যমে চক্রটি পরিচালিত হতো বলেও সূত্রের দাবি। চক্রটির বিরুদ্ধে মিরপুরের পল্লবী, মিরপুর-১২, সাগুফতা ও বাউনিয়া এলাকায় চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা জবরদখল, জমি দখল ও মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।
