যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে হামলা চালালে দেশটির পাল্টা সামরিক অভিযানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাবে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামে পরিবর্তন আনা হবে।
সোমবার ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যের বরাতে কাতারভিত্তিক আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। মোহেব্বি বলেন, নতুন করে হামলা হলে ইরান এমন কিছু অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করবে, যেগুলোর সক্ষমতা আগের ব্যবহৃত অস্ত্রের তুলনায় ভিন্ন হবে।
আইআরজিসির এই মুখপাত্র আরও বলেন, সম্ভাব্য পরবর্তী অভিযানে আগের লক্ষ্যবস্তুগুলোই থাকবে—এমন নয়। তাঁর দাবি, ইরান এমন কিছু নতুন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছে, যেখানে এখনো হামলা চালানো হয়নি।
গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা চালায়নি। তবে পরিস্থিতি আবার পরিবর্তিত হলে ইরান প্রতিরক্ষামূলক ও পাল্টা হামলার কৌশলে পরিবর্তন আনবে বলে হোসেইন মোহেব্বির বক্তব্যে জানানো হয়েছে।
মোহেব্বি দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে এবং এই পরাজয় ঐতিহাসিক ও অপমানজনক। তাঁর ভাষ্য, ওয়াশিংটনের জন্য সেই পরাজয় স্বীকার করা কঠিন।
এই দাবির পক্ষে তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেন। ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের জবাবে ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। মোহেব্বির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করেও এটি পুনরায় খুলতে পারেনি।
ইরানি এই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ঘাঁটির নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে বিনিয়োগ করেছে, ইরানের হামলার মুখে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মোহেব্বির দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা স্থাপনাগুলোতেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার মাধ্যমে ইরান দেখিয়েছে যে ওই স্থাপনাগুলো তাদের সামরিক সক্ষমতার নাগালের বাইরে নয়।
