নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মাত্র ২০ শয্যার ধারণক্ষমতার ওয়ার্ডটিতে শুক্রবার পর্যন্ত ৯০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। জায়গার সংকটে বারান্দা, প্রবেশপথ, এমনকি হাসপাতালের বাইরে গাছতলা ও ভ্যানেও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ভেতর ও বারান্দায় রোগীদের ভিড়। জায়গা না পেয়ে কয়েকজন রোগী হাসপাতাল ভবনের বাইরে গাছের নিচে বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কারও কারও স্যালাইন গাছের ডালে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার কয়েকজন ভ্যানের ওপর বসেই স্যালাইন নিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন নতুন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছেন। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের বাইরে গাছতলা ও ভ্যানেও রোগীদের স্যালাইন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এতে রোগীদের ভোগান্তির পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাতেও চাপ তৈরি হয়েছে। শিশু ও বয়স্ক রোগীদের নিয়ে স্বজনদের উদ্বেগও বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগলশী ইউনিয়নের বাসিন্দা জাকারিয়া ইসলাম জানান, ১২ মাস বয়সী নাতিকে নিয়ে হাসপাতালে এসে ভেতরে জায়গা না পাওয়ায় গাছের নিচে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সদরের কচুকাটা এলাকা থেকে ৮ মাস বয়সী শিশু লামিয়াকে নিয়ে আসা মল্লিনা আক্তারও গাছের ডালে স্যালাইন ঝুলিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার কথা জানান।
চওড়া বড়গাছা এলাকার রোজিনা বেগম বলেন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় তার সন্তানকে ভ্যানের ওপর স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে এসে ভ্যানের ওপর চিকিৎসা নিতে হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জান্নাতুন মাওয়া বলেন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ২০ জন। কিন্তু প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় জায়গার সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে গাছের ডালে স্যালাইন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ হেল মাফি জানান, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতা মাত্র ২০ জন হলেও বর্তমানে প্রায় পাঁচগুণ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীদের যথাযথভাবে চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
