বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সংসদ সদস্যের মালয়েশিয়া সফর ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া এই সংসদ সদস্যদের সফর বাংলাদেশে ব্যক্তিগত সফর হিসেবে উল্লেখ করা হলেও মালয়েশিয়ায় তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠককে ‘শিক্ষামূলক সফর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেশটির রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী ড. মাসজলি মালিক।
বৈঠকে সংস্কারমুখী রাজনৈতিক দলগুলোর চ্যালেঞ্জ, সংসদ সদস্যদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ড. মাসজলি মালিক।
মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক দল কেদিলানের আন্তর্জাতিকবিষয়ক ব্যুরো এবং ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইসলামিক স্টাডিজের (আইএআইএস) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ড. মাসজলি মালিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের আতিথ্য দেওয়ার কথা জানান।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংস্কারমুখী দলগুলোর সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং এসব পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
বৈঠকে অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন সারদারের ‘পোস্ট-নরমাল টাইমস’ ধারণা এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ‘মাদানি’ ধারণার প্রসঙ্গও উঠে আসে। জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা, সত্যনিষ্ঠা, সততা ও জবাবদিহিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জনগণের কথা শোনা ও তাদের প্রত্যাশার প্রতি সাড়া দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, জামায়াতের ৩৪ সংসদ সদস্য ও তাদের স্ত্রীদের একটি বড় বহর ১৩ সেপ্টেম্বর এয়ার এশিয়ার ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটের একে-৭০ ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পৌঁছায়।
তাদের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তালিকায় নাম না থাকলেও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
সফরসঙ্গীদের তালিকায় বিভিন্ন আসনের ৩৪ সংসদ সদস্যের নাম রয়েছে। সংসদ সদস্যদের বাইরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনও সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন। ফলে মূল তালিকায় ৩৫ জন পুরুষের নাম রয়েছে—৩৪ জন সংসদ সদস্য ও একজন দলীয় নেতা। সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তাদের স্ত্রীদেরও সফরসঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতসংখ্যক সংসদ সদস্যের একসঙ্গে মালয়েশিয়া সফর দেশটির বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও ইসলামি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সংস্কার, জবাবদিহিতা ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হওয়ায় সফরটির রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় জামায়াতের কোনো আনুষ্ঠানিক দলীয় কর্মসূচি, প্রবাসী নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক কিংবা সংগঠন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
সফরটি ব্যক্তিগত ভ্রমণের পাশাপাশি কতটা শিক্ষামূলক ও রাজনৈতিক মতবিনিময়কেন্দ্রিক ছিল, তা সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী কর্মসূচি ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
