অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে দলের ধৈর্যশীল ও নিয়ন্ত্রিত টেস্ট ক্রিকেটকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন দেশটির সাবেক পেসার জেসন গিলেস্পি। তাঁর মতে, পুরো ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের ওপর চাপ ধরে রাখে তারা। বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের প্রশংসা করেন গিলেস্পি।
তিনি বলেন, প্যাট কামিন্সের অধিনায়কত্বে বড় কোনো সমস্যা ছিল না। মূলত প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ব্যর্থতাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় ভালো খেলেছে এবং ধৈর্য ধরে পুরোনো ধাঁচের টেস্ট ক্রিকেটের উদাহরণ দেখিয়েছে।
ডারউইন টেস্টের একাদশে ক্যামেরন গ্রিন ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সব খেলোয়াড়ই ছিলেন ৩০ বছরের বেশি বয়সী। দলের বয়সভিত্তিক ভারসাম্য নিয়েও তাই আলোচনা শুরু হয়েছে।
গিলেস্পির মতে, আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের নতুন খেলোয়াড়দের দলে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তবে তাঁর বিশ্বাস, ম্যাকাই টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অস্ট্রেলিয়ার রয়েছে। তাঁর ধারণা, ম্যাকাইয়ের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হবে এবং সেখানে স্বাগতিকরা শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করতে পারে।
ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড—তিনজনেরই টেস্টে ৩০০-এর বেশি উইকেট রয়েছে। এমন অভিজ্ঞ পেস আক্রমণের বিপক্ষেও প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে বাংলাদেশ।
গিলেস্পি অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের পারফরম্যান্সকেও খারাপ বলেননি। তাঁর মতে, পেসাররা যথেষ্ট ভালো বোলিং করলেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা অসাধারণ দক্ষতায় তা মোকাবিলা করেছেন।
তিনি মনে করেন, একই মানের বোলিং ধরে রাখতে পারলে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার আরও ভালো করার সুযোগ থাকবে।
ডারউইনের পর এবার সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাকাইয়ে। সেখানে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন গিলেস্পি।
তবে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স যে অস্ট্রেলিয়াকে বড় ধাক্কা দিয়েছে, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে ধৈর্য ধরে রান করার বাংলাদেশের কৌশলই ডারউইনে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
