কারাগারে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন ভারতের হরিয়ানার গ্যাংস্টার মাইনপাল ধিল্লা। প্রেমিকা মেটাকে বিয়ে করতে বৃহস্পতিবার মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য কাস্টডি প্যারোলে মুক্তি পান ৫০ বছর বয়সি এই আসামি। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তাকে আবার কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়।
৩৭ বছর বয়সি কম্বোডিয়ান নাগরিক মেটা তার তিন সন্তানকে নিয়ে ঝাজ্জারে আসেন। পরিবারের অন্য কোনো সদস্য তার সঙ্গে ছিলেন না। ধিল্লার এক চাচাতো ভাইয়ের মালিকানাধীন একটি ফার্মহাউসে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়।বিয়ের মণ্ডপে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা
বিয়ের পুরো আয়োজন ছিল কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে। মণ্ডপের চারপাশে প্রায় ১৫ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা ও অস্ত্রধারী কর্মকর্তা সরাসরি বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার ওপর নজর রাখেন।
কৃত্রিম ফুল দিয়ে সাজানো অস্থায়ী ঘরে বিয়ের মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছিল। জায়গাটি এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে ধিল্লা, মেটা, তাদের সন্তান ও পুরোহিতের দাঁড়ানোর মতো জায়গাই ছিল। বাইরে থেকেও পুরো আয়োজনটি ছিল বেশ সাধারণ।
ফার্মহাউসের বাইরে প্রায় ৫০টি গাড়ি পার্ক করা থাকলেও বিয়ের কোনো বড় ধরনের সাজসজ্জা দেখা যায়নি। প্রবেশপথে পুলিশ সদস্যরা অতিথিদের ব্যাগ তল্লাশি করেন, মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করেন এবং নাম, বাবার নাম ও ফোন নম্বর লিখে রাখেন। গণমাধ্যমকর্মীদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ধিল্লার জন্য বিয়েতে অংশ নেওয়ার সময়সীমা ছিল কঠোরভাবে নির্ধারিত। রাত ৮টার মধ্যে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ছিল। ফলে বিয়ের আয়োজন থেকে শুরু করে সব আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।
বিয়ের সময় ধিল্লার দুই হাত কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভবত হাতকড়া আড়াল করতেই এমনটি করা হয়েছিল। তবে কাপড়ের ফাঁক দিয়ে মাঝে মাঝে হাতকড়ার ধাতব অংশ দেখা যাচ্ছিল।
ধিল্লা বাদলি গ্রামের একজন ট্রাক্টর মেকানিক ছিলেন। ২০০০ সালে গ্রামের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধের জেরে নিজের চাচা হেমচন্দ্রকে হত্যার পর পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তার নাম ওঠে। পরে তিনি মামা ওমপ্রকাশকেও হত্যা করেন।
এরপর আরও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। বর্তমানে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি, ছিনতাই, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও অবৈধ অস্ত্রসহ অন্তত ২২টি মামলায় তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
কারাগারে থাকা কোনো গ্যাংস্টারকে বিয়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা হরিয়ানায় এর আগেও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের মার্চে দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও রাজস্থানে ৩০টির বেশি মামলার আসামি সন্দ্বীপ ওরফে ‘কালা জাতেডি’কে ছয় ঘণ্টার প্যারোল দেওয়া হয়েছিল। অনুরাধা চৌধুরীকে বিয়ে করতে তিনি এই সুযোগ পান। দ্বারকার একটি অনুষ্ঠানে বিয়ের সময় প্রায় ২৫০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন।
একই মাসে হরিয়ানার আরেক গ্যাংস্টার যোগেশ দহিয়া ওরফে ‘টুন্ডা’কেও বিয়ের জন্য ছয় ঘণ্টার প্যারোল দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। সে সময় তিনি তিহার জেলে বন্দি ছিলেন।
এর পরের বছর, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিলু তাজপুরিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত অমিত ওরফে ‘দাবাং’কে নিজের বিয়েতে অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার প্যারোল দেওয়া হয়। কড়া পুলিশ পাহারায় তাকে বিয়ের অনুষ্ঠানে নেওয়া হয়েছিল এবং অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
