ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে বাবাকে হত্যার ঘটনায় তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাবা তার প্রেমিকাকে সম্পত্তি দিয়ে দিতে পারেন—এমন আশঙ্কা এবং ঋণের চাপে ছেলে বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম বিনীত মনোজা। তিনি কানপুরের একজন ঔষধ ব্যবসায়ী। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে কল্যাণপুর এলাকার বিলাসবহুল ‘রতন অরবিট’ অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাটে তাকে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছিল, বিনীতের পুত্রবধূ শালু এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। ঘটনার পরদিন শালু, বিনীতের ফার্মেসির সাবেক কর্মচারী বিশাল গৌতম এবং তার সহযোগী রাজকিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকারী একটি নতুন সিম কার্ড থেকে বিনীতের ছেলে সুব্রতকে ছয়বার ফোন করেছিল। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর সুব্রতকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন সুব্রত। পরে তিনি জানান, তার বাবার একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। সুব্রতের আশঙ্কা ছিল, তার বাবা অন্য কোনো নারীর সঙ্গে থাকা শুরু করে সম্পত্তি তার নামে লিখে দিতে পারেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে হত্যাকাণ্ডকে দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, বিনীত তার ছেলেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার রুপি খরচের জন্য দিতেন। অন্যদিকে, সুব্রতের ঋণের কিস্তি ছিল মাসে প্রায় ৫৫ হাজার রুপি। সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কার সঙ্গে ঋণের চাপও হত্যার পরিকল্পনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, সুব্রত তার বাবাকে হত্যার জন্য ফার্মেসির সাবেক কর্মচারী বিশালকে ছয় লাখ রুপির বিনিময়ে দায়িত্ব দেন।
কানপুরের পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল জানান, কল ডিটেইলস, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল ও বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ এবং উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন জিনিস বিশ্লেষণ করে হত্যার ষড়যন্ত্রের তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশাল তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন যে সুব্রতই তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাকে গ্রেপ্তার করা হলে শালুর নাম বলতে হবে—এমন নির্দেশও সুব্রত তাকে দিয়েছিলেন বলে বিশাল দাবি করেছেন। তবে পুলিশ শালুকে এখনো পুরোপুরি দায়মুক্ত করেনি এবং ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
তদন্তে পুলিশ দেখতে পায়, ১ মে থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুব্রত ও বিশালের মধ্যে ২৫৮ বার ফোনে কথা হয়েছে। সুব্রতের ফোন থেকে মুছে ফেলা কিছু চ্যাটও উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো হত্যার পরিকল্পনার দিকে ইঙ্গিত করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে বিশাল নতুন একটি সিম কার্ড কেনেন। ওই নম্বর থেকে সুব্রতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কল করা হয়েছিল।
রিমান্ডে পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লালের উপস্থিতিতে সুব্রত, শালু ও বিশালকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় বিশাল ভেঙে পড়ে এবং সুব্রত তাকে ছয় লাখ রুপির বিনিময়ে হত্যার দায়িত্ব দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
