নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সাদিয়া আক্তারকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দলটি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানার সই করা চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দলীয় চিঠিতে বলা হয়েছে, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে সাদিয়া আক্তারকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
সাদিয়া আক্তার (২৩) নেত্রকোনা জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, কয়েকজনকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে সাদিয়া আক্তার প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুড়পাড় এলাকায় আরও একজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকালে পৌর শহরের বলাইনগুয়া চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়ার স্ত্রী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় প্রতারণার মামলা করেন। পরে পুলিশ সাদিয়া আক্তারকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।জামিনে মুক্তি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে সাদিয়া আক্তার জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এনসিপির জেলা সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাদিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাদিয়া যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের জবাব দিতে পারবেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাদিয়া সরকারদলীয় নেতৃবৃন্দের আক্রোশের শিকার।
অভিযোগের সত্যতা বা সাদিয়ার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিবেদনে এর বেশি তথ্য দেওয়া হয়নি।
