বগুড়ার বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সবুজ আমন ধানে ছেয়ে গেছে। কোথাও ধানগাছ কোমরসমান উঁচু হয়েছে, আবার কোথাও কাইচ থোড় আসার অপেক্ষায় রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি মৌসুমে ধানের ক্ষেত ভালো অবস্থায় রয়েছে। ভালো ফলনের আশায় নিয়মিত জমির পরিচর্যা করছেন কৃষকেরা।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমি থেকে ৬ লাখ ৬১ হাজার ৮৩৮ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
এবার জেলায় হাইব্রিড ও উচ্চ ফলনশীল উফশী জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।
সদরসহ শাজাহানপুর, শেরপুর, ধুনট, গাবতলী, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, শিবগঞ্জ, দুপচাঁচিয়া, আদমদীঘি ও নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ এখন সবুজে ভরে উঠেছে। কোনো কোনো জমিতে আগাম জাতের ধানে ইতোমধ্যে শীষ এসেছে, আবার কিছু জমিতে ধানগাছ কাইচ থোড়ের পর্যায়ে রয়েছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আমন ধানের চারা রোপণে এবার কিছুটা দেরি হয়েছিল। কিছু বীজতলায় চারা তুলনামূলক ধীরগতিতে বেড়ে ওঠায় কয়েকটি এলাকায় রোপণ পিছিয়ে যায়। তবে পরে পর্যাপ্ত পানি, মাঝারি বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়া পাওয়ায় সেই ঘাটতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে অধিকাংশ জমিতে ধানগাছ সতেজ ও সবুজ রয়েছে। চারা রোপণের কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই কৃষকদের আগাছা পরিষ্কার, প্রয়োজন অনুযায়ী সার ও বালাইনাশক প্রয়োগসহ নিয়মিত পরিচর্যা করতে হচ্ছে।
প্রায় ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ধানগাছে কাইচ থোড় আসে। এরপর সেখান থেকে শীষ বের হয়। শীষে ধান পরিপক্ব হয়ে সোনালি রং ধারণ করলে শুরু হবে ধান কাটার মৌসুম।
কাহালু উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল গোফফার মন্ডল জানান, তিনি এবার ৯ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। তাঁর জমিতে ধানগাছের অবস্থা ভালো হওয়ায় ফলন নিয়ে আশাবাদী তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বোরো ধানের তুলনায় আমন চাষে সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক বাবদ খরচ কম হয়। তবে কৃষকদের লাভ ধরে রাখতে সার ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, আমনের উৎপাদন বাড়াতে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উঠান বৈঠক, মাঠ পরিদর্শন এবং কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে ধান চাষের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের ক্ষেতের অবস্থা ভালো। অনুকূল আবহাওয়া, প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত ও জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতার কারণে ধানের চারা দ্রুত বেড়ে উঠছে। ফসল ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগাম জাতের আমন চাষ করা কিছু কৃষক হেমন্তের মাঝামাঝি থেকেই ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর সাধারণ জাতের আমন ধান আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে কাটার উপযোগী হতে পারে বলে আশা করছেন কৃষকেরা।
