বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে? ২০২৬ সালের তথ্য

বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে? ২০২৬ সালের তথ্য

বিদেশে চাকরির জন্য যেতে চাইলে প্রথমেই জানতে হয় বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে। তবে শুধু কোনো দেশের ওয়ার্ক ভিসা ব্যবস্থা আছে কি না জানলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয় না। কারণ একটি দেশে বিদেশি কর্মীদের জন্য কাজের ভিসা চালু থাকলেও বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নেওয়া সাময়িকভাবে সীমিত, নির্দিষ্ট পেশায় খোলা অথবা নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার মাধ্যমে হতে পারে।

২০২৬ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তিতে একাধিক দেশের জন্য কর্মী নিয়োগের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ব্রুনাই, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ফিজি, হংকং, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের কর্মসংস্থান কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে।

তবে সব দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের ভিসা বা নিয়োগ ব্যবস্থা নেই। কোথাও সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া রয়েছে, কোথাও নির্দিষ্ট কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মী নেওয়া হয়, আবার কোথাও নিয়োগকর্তার চাকরির অফারের ভিত্তিতে আবেদন করতে হয়।

 

বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে?

২০২৬ সালের সরকারি তথ্য পর্যালোচনা করলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিভিন্ন দেশের কর্মসংস্থানের পথ দেখা যায়। বিশেষ করে সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম থেকে যেসব দেশের বিষয়ে সাম্প্রতিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রুনাই, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, ফিজি, হংকং এবং সিঙ্গাপুর

এ ছাড়া ইতালি, রাশিয়া, কুয়েত, মালদ্বীপসহ আরও কিছু দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের কার্যক্রম বা শ্রমবাজার সম্পর্কিত সরকারি উদ্যোগ রয়েছে। তবে এসব দেশের ক্ষেত্রে নতুন নিয়োগের অবস্থা, কোটা, পেশা এবং আবেদন পদ্ধতি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

তাই নিচের দেশগুলোর তথ্যকে একটি ২০২৬ সালের বর্তমান কর্মসংস্থান-চিত্র হিসেবে দেখা উচিত, স্থায়ীভাবে খোলা দেশের তালিকা হিসেবে নয়।

 

ব্রুনাইয়ের কাজের ভিসা কি বাংলাদেশিদের জন্য চালু আছে?

হ্যাঁ, ২০২৬ সালে ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সরকারি কার্যক্রমের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

বোয়েসেলের বর্তমান অনলাইন নিয়োগ প্ল্যাটফর্মে ব্রুনাইয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্মাণ শ্রমিক, ভারী গাড়ির চালক, ল্যান্ডস্কেপ টেকনিশিয়ান, চালক, ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান, সাধারণ শ্রমিক, মেকানিক এবং অন্যান্য পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখা যাচ্ছে। এমনকি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখেও কিছু ব্রুনাই নিয়োগের আবেদনসীমা ছিল।

অর্থাৎ ব্রুনাই বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের একটি সক্রিয় গন্তব্য। তবে প্রতিটি পদে আলাদা যোগ্যতা, নিয়োগকর্তা এবং আবেদনসীমা থাকে।

 

জর্ডানের কাজের ভিসা কি চালু আছে?

২০২৬ সালে জর্ডানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের একাধিক সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বোয়েসেল। গার্মেন্টস, সিরামিক এবং অন্যান্য খাতে দক্ষ কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি পাওয়া গেছে।

২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে জর্ডানের গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে পুরুষ ও নারী কর্মী, মেশিন অপারেটর এবং অন্যান্য দক্ষ কর্মীর নিয়োগের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

তাই জর্ডানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সরকারি নিয়োগের বাস্তব পথ রয়েছে। তবে কোন সময়ে কোন পদে আবেদন নেওয়া হবে, তা বোয়েসেলের নতুন বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করে।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার কাজের ভিসা কি চালু আছে?

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইপিএস বা কর্মসংস্থান পারমিট ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বোয়েসেলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইপিএস-সংক্রান্ত নিবন্ধন, কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষা এবং কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সাধারণ কর্মীদের জন্য ইপিএসের পাশাপাশি নির্দিষ্ট খাতে মৌসুমি কর্মী নিয়োগের তথ্যও ২০২৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে। কৃষি খাতে পুরুষ ও নারী মৌসুমি কর্মী নিয়োগের সরকারি বিজ্ঞপ্তি মার্চ ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে সাধারণত সংশ্লিষ্ট ভাষা পরীক্ষা, নিবন্ধন, রোস্টার, চাকরির প্রস্তাব এবং পরবর্তী ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাই শুধু ভাষা পরীক্ষা পাস করলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না।

 

জাপানের কাজের ভিসা কি বাংলাদেশিদের জন্য চালু?

জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একাধিক কর্মসংস্থান কর্মসূচি রয়েছে। বোয়েসেলের সরকারি ওয়েবসাইটে জাপানের জন্য টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম এবং নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী কর্মসূচি সম্পর্কিত সেবা ও তথ্য দেওয়া হয়েছে।

জাপানে কাজের জন্য কর্মীর দক্ষতা, ভাষাগত যোগ্যতা এবং নির্দিষ্ট কর্মসূচির শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই জাপানের ক্ষেত্রে “ওয়ার্ক ভিসা খোলা” কথাটিকে একটি সাধারণ ভিসা হিসেবে না দেখে নির্দিষ্ট কর্মসূচি ও চাকরির ধরন অনুযায়ী বোঝা বেশি সঠিক।

 

মালয়েশিয়ার কাজের ভিসা কি চালু আছে?

মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। ২০২৬ সালে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিয়োগ কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তবে সব ধরনের কর্মীর জন্য অবাধভাবে আবেদন চলছে—এমন কথা বলা ঠিক হবে না।

বোয়েসেলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় হাউজকিপিং অ্যাটেনডেন্ট এবং পুরুষ স্পা থেরাপিস্ট পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে জানিয়েছে যে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ পুনরায় বিস্তৃত হওয়ার বিষয়ে কাজ চলছে।

তাই মালয়েশিয়াকে বর্তমানে “সম্পূর্ণভাবে বন্ধ” বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি সব ধরনের চাকরির জন্য “পুরোপুরি উন্মুক্ত” বলাও সঠিক নয়। নির্দিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

 

ফিজির কাজের ভিসা কি বাংলাদেশিদের জন্য চালু?

ফিজিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সরকারি কার্যক্রমও রয়েছে। বোয়েসেলের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে ফিজিতে বিভিন্ন পেশায় কর্মী নিয়োগের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে শেফ, বাসচালক, টেকনিশিয়ান, ডিজেল মেকানিক, ইলেকট্রিশিয়ান এবং পাম্প টেকনিশিয়ানের মতো পেশা রয়েছে।

বোয়েসেলের পূর্ববর্তী বার্ষিক প্রতিবেদনে ফিজিতে বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর তথ্যও রয়েছে। সেখানে চাহিদা অনুযায়ী কর্মী নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ফিজিতে চাকরির ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা যোগ্যতা দেখে আবেদন করা প্রয়োজন।

 

হংকংয়ের কাজের ভিসা কি চালু আছে?

হংকংয়ের জন্যও বাংলাদেশ থেকে নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বোয়েসেল হংকংয়ে নারী গৃহকর্মী নিয়োগের সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

তবে হংকংয়ের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পেশা ও নিয়োগের ধরন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নির্দিষ্ট চাকরির জন্য আবেদন করার আগে সেই পদের যোগ্যতা, বেতন, নিয়োগকর্তা এবং ভিসার শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।

 

সিঙ্গাপুরের কাজের ভিসা কি চালু আছে?

সিঙ্গাপুরেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। বোয়েসেলের অনলাইন নিয়োগ প্ল্যাটফর্মে ২০২৬ সালে সিঙ্গাপুরের জন্য রিবার কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখা গেছে।

সিঙ্গাপুরে বিদেশি কর্মীদের জন্য কাজের অনুমতির ধরন পেশা ও দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। তাই কোনো বাংলাদেশি কর্মী কোন ধরনের ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য হবেন, সেটি তার চাকরি ও নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভর করবে।

 

ইতালির কাজের ভিসা কি বাংলাদেশিদের জন্য চালু আছে?

ইতালিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কাজের ভিসার পথ চালু রয়েছে, তবে এটি নির্দিষ্ট কোটা ও অনুমোদনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইতালির ঢাকাস্থ দূতাবাসের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ডেক্রেতো ফ্লুসি কোটার আওতায় কাজের ভিসার আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। বৈধ নুল্লা ওস্তা থাকলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন শুরু করা যায়।

ইতালির রাষ্ট্রদূত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে ২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় ১০,০০০ কাজের ভিসা দেওয়া হয়েছিল এবং ২০২৬ সালেও একই ধরনের সংখ্যার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, নতুন অনুমোদনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য প্রত্যাখ্যানের হার দেখা যায়নি।

তবে পুরোনো অনুমোদন বা পুরোনো নুল্লা ওস্তা নিয়ে আলাদা জটিলতা থাকতে পারে। তাই ইতালির কাজের ভিসার ক্ষেত্রে বর্তমান অনুমোদন ও নিয়োগকর্তার কাগজ যাচাই করা জরুরি।

 

রাশিয়ার কাজের ভিসা কি বাংলাদেশিদের জন্য চালু?

রাশিয়াও বাংলাদেশের জন্য একটি উদীয়মান শ্রমবাজার হিসেবে সরকারি নথিতে এসেছে। বোয়েসেলের প্রতিবেদনে রাশিয়ার একটি বড় জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার চাহিদাপত্র পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে জাহাজ নির্মাণ ও নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর তথ্য রয়েছে।

তবে রাশিয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কতটি চাকরি খোলা আছে, সেটি সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণ “রাশিয়ার ভিসা খোলা” ধরনের পোস্টের পরিবর্তে অনুমোদিত চাকরির অফার যাচাই করা উচিত।

 

কুয়েতের কাজের ভিসা কি চালু আছে?

বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে দক্ষ কর্মী নিয়োগের সরকারি কার্যক্রমের প্রমাণ রয়েছে। বোয়েসেলের বার্ষিক প্রতিবেদনে কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি নার্স নিয়োগের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে শত শত দক্ষ নার্স নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে।

তবে কুয়েতের সব পেশায় একই সময়ে নিয়োগ বা ভিসা কার্যক্রম চালু থাকবে—এমন নয়। নির্দিষ্ট পেশা ও নিয়োগকর্তার চাহিদার ওপর সুযোগ নির্ভর করতে পারে।

 

মালদ্বীপে বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ আছে কি?

মালদ্বীপেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। বোয়েসেলের ২০২৬ সালের নোটিশে মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি স্বাস্থ্য পেশাজীবী নিয়োগের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

তবে মালদ্বীপের সব রিসোর্ট বা প্রতিষ্ঠানের জন্য একই ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া থাকবে না। রিসোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা বা অন্যান্য খাতে চাকরির জন্য আলাদা নিয়োগকর্তা এবং ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া থাকতে পারে।

 

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের কোন কোন দেশে কাজের সুযোগ আছে?

বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে কর্মী গ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শ্রমবাজার, চুক্তি, সমঝোতা স্মারক বা অন্যান্য কর্মসংস্থানসংক্রান্ত কার্যক্রম রয়েছে। সরকারি তালিকায় ইতালি, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কসোভো, সাইপ্রাস, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের নাম রয়েছে।

তবে কোনো দেশের সঙ্গে শ্রমবাজার-সংক্রান্ত চুক্তি বা সমঝোতা থাকা মানেই সেই মুহূর্তে প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য নতুন ওয়ার্ক ভিসা আবেদন খোলা—এমন নয়।

বিশেষ করে ইউরোপের ক্ষেত্রে চাকরির অফার, নিয়োগকর্তার অনুমোদন, শ্রমবাজারের নিয়ম, কোটা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা প্রক্রিয়া একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

 

কাজের ভিসা চালু আর নিয়োগ চালু কি একই বিষয়?

না, দুটি বিষয় আলাদা।

কোনো দেশের আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা থাকলেই বাংলাদেশ থেকে সেই মুহূর্তে কর্মী নিয়োগ হবে—এমন নয়। অনেক দেশে নিয়োগকর্তাকে আগে কর্মীর জন্য অনুমোদন নিতে হয়। আবার কোনো কোনো দেশে নির্দিষ্ট কোটা বা কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মী নেওয়া হয়।

উদাহরণ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় ইপিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ধাপে কর্মী নেওয়া হয়। ইতালিতে ডেক্রেতো ফ্লুসি কোটা ও নিয়োগকর্তার অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ। জাপানে নির্দিষ্ট কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।

তাই “কাজের ভিসা চালু আছে” কথাটি শুনলে প্রথমেই জানতে হবে—কোন পেশায়, কোন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে এবং বর্তমানে আবেদন নেওয়া হচ্ছে কি না।

 

কোন কোন দেশে সরকারি মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাচ্ছে?

২০২৬ সালের বোয়েসেল তথ্য অনুযায়ী, সরকারি নিয়োগের সাম্প্রতিক উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রুনাই, জর্ডান, ফিজি, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং এবং মালয়েশিয়া। বোয়েসেলের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে ব্রুনাইয়ের একাধিক পদে সরাসরি আবেদন করার সুযোগও দেখা যাচ্ছে।

এ ধরনের সরকারি নিয়োগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আবেদনকারী বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগকর্তা, পদ, যোগ্যতা এবং আবেদনের সময়সীমা সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য দেখতে পারেন।

তবে একটি বিজ্ঞপ্তির আবেদন শেষ হয়ে গেলে একই দেশ বন্ধ হয়ে গেছে—এমন ধারণাও ঠিক নয়। নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পরবর্তীতে প্রকাশিত হতে পারে।

 

বাংলাদেশ থেকে কাজের ভিসায় যেতে কী কী লাগে?

দেশভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আলাদা হলেও সাধারণত বৈধ পাসপোর্ট, চাকরির অফার বা নিয়োগপত্র, শিক্ষাগত বা দক্ষতার সনদ, অভিজ্ঞতার প্রমাণ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, মেডিকেল পরীক্ষা এবং ভিসা আবেদনপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

কিছু দেশে ভাষা পরীক্ষাও প্রয়োজন হয়। যেমন দক্ষিণ কোরিয়ার ইপিএস কর্মসূচিতে কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

অন্যদিকে ইতালির মতো দেশে নিয়োগকর্তার অনুমোদন বা নুল্লা ওস্তা ছাড়া কাজের ভিসার প্রক্রিয়া এগোয় না।

তাই কোনো এজেন্সির কাছ থেকে শুধু “ভিসা হবে” শুনে টাকা না দিয়ে প্রথমে চাকরির কাগজ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি নিয়ম যাচাই করা উচিত।

 

কাজের ভিসার জন্য এজেন্সিকে টাকা দেওয়ার আগে কী করবেন?

বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি ফি এবং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ আলাদা বিষয়। কোনো এজেন্সি বড় অঙ্কের টাকা চাইলে সেই অর্থের বিনিময়ে কী সেবা দেওয়া হবে, তা লিখিতভাবে নিন।

নিয়োগকর্তার নাম, চাকরির পদ, বেতন, কাজের সময়, থাকা-খাওয়ার সুবিধা, চুক্তির মেয়াদ এবং ভিসার ধরন পরিষ্কারভাবে দেখুন।

বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। বোয়েসেল নিজেকে নিরাপদ, নৈতিক ও সাশ্রয়ী অভিবাসনের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করে এবং তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চাকরির আবেদন ও আবেদনের অবস্থা দেখার ব্যবস্থা রয়েছে।

 

২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা পাওয়া যাচ্ছে?

সরকারি সূত্রে ২০২৬ সালে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিচের দেশগুলোর কর্মসংস্থানের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে:

ব্রুনাই: নির্মাণ, চালক, ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান, টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের তথ্য রয়েছে।

জর্ডান: গার্মেন্টস, সিরামিক এবং অন্যান্য দক্ষ পেশায় নিয়োগের সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া: ইপিএস এবং নির্দিষ্ট মৌসুমি কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের কার্যক্রম রয়েছে।

জাপান: নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী ও কারিগরি প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে সুযোগ রয়েছে।

ফিজি: শেফ, চালক, টেকনিশিয়ান, মেকানিক ও ইলেকট্রিশিয়ানসহ বিভিন্ন পেশায় সরকারি নিয়োগের তথ্য রয়েছে।

হংকং: নির্দিষ্টভাবে নারী গৃহকর্মী নিয়োগের সরকারি বিজ্ঞপ্তি রয়েছে।

মালয়েশিয়া: ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট পদে সরকারি নিয়োগের তথ্য রয়েছে, তবে সামগ্রিক শ্রমবাজারের অবস্থা আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন।

সিঙ্গাপুর: নির্দিষ্ট নির্মাণ খাতে কর্মী নিয়োগের সরকারি বিজ্ঞপ্তি পাওয়া গেছে।

ইতালি: ডেক্রেতো ফ্লুসি ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কাজের ভিসার পথ রয়েছে এবং ২০২৬ সালে নতুন অনুমোদনের ভিত্তিতে ভিসা প্রক্রিয়া চলছে।

রাশিয়া: জাহাজ নির্মাণ ও নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সরকারি কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে।

কুয়েত: দক্ষ নার্সসহ নির্দিষ্ট পেশায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সরকারি তথ্য রয়েছে।

মালদ্বীপ: স্বাস্থ্য পেশাজীবীসহ নির্দিষ্ট খাতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সরকারি তথ্য রয়েছে।

 

বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে—এই প্রশ্নের উত্তর সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। ২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ব্রুনাই, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ফিজি, হংকং, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি, রাশিয়া, কুয়েত ও মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশের কর্মসংস্থানের পথ বা নিয়োগ কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

তবে সব দেশের পরিস্থিতি এক নয়। কোথাও সরাসরি সরকারি নিয়োগ চলছে, কোথাও নির্দিষ্ট কর্মসূচির মাধ্যমে আবেদন করতে হয়, আবার কোথাও নিয়োগকর্তার অনুমোদন ও কোটা পূরণ হওয়ার পর ভিসা প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তাই বিদেশে যাওয়ার আগে শুধু “কাজের ভিসা চালু” কথাটি শুনে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চাকরির অফার, নিয়োগকর্তা, ওয়ার্ক পারমিট, ভিসার ধরন, বেতন, মোট খরচ এবং আবেদনসীমা যাচাই করুন। সর্বশেষ নিয়োগের তথ্যের জন্য বোয়েসেল ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *